খাগড়াছড়িতে বৃহৎ দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মতানৈক্য

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫, ২২:১৪
খাগড়াছড়ির পৌরসভা নির্বাচনে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশগ্রহণ ও পক্ষ অবলম্বন  নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে নেতা-কর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে মতানৈক্য। দলের তৃনমূল নেতাদের মতামতকে প্রধান্য না দিয়ে মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে নির্বাচনী প্রচারনায় নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহে ঠাণ্ডাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ মতপার্থক্য কখনো গোপনে কখনো প্রকাশ্যে চোখে পড়ছে। মেয়র প্রার্থী পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কেউ কেউ প্রতিবাদী হতে চাইলেও দুই দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে বহিষ্কারের ভয়ও কাজ করছে। কোনো কোনো নেতা-কর্মী দুরত্ব বজায় রেখে দিন কাঠাচ্ছে। এসব নিয়ে দলের সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে সর্বত্র চলছে আলোচনা। ভোটে জেতা না জেতার বিষয় নিয়েও দেখা দিয়েছে নানান আশঙ্কা।
 
খাগড়াছড়ি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মো. শানে আলম ও বিএনপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টুকে দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে নির্বাচন করতে মনোনয়ন প্রদান করেন। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ হোসেন প্রথম দিকে তৃনমূল নেতা-কর্মীদের মতামত না নিয়ে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করায় হঠাৎ বেঁকে বসেছিলেন। পরে অবশ্য মো. শানে আলমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় কাজ করছে। তার অভিযোগ ছিল, দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মনোয়ন না দিয়ে নব্য আওয়ামী লীগ সমর্থককে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ কারনে অনেকেই দলের সিদ্ধান্ত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছেন।
 
জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘আমরা গ্রহনযোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছি।’
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের ছোট ভাই বর্তমান মেয়র রফিকুল আলম নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সাধারণ নেতা-কর্মীরা কোন পথ অবলম্বন করবে তা নিয়ে পড়েছে বিপাকে। বলা বাহুল্য, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. শানে আলম সম্পর্কে বর্তমান মেয়র রফিকুল আলমের আপন জেঠাতো ভাই।
 
এদিকে বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা জানান, দলের পক্ষ থেকে যে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার সাংগঠনিক জনপ্রিয়তা ও সকল মহলে  গ্রহণযোগ্যতার অভাব থাকায় নেতা-কর্মীরা বিপাকে পড়েছে। বিএনপির নেতাদের মতে প্রার্থী মনোনয়নে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিলে হয়ত বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল।
 
বিএনপির সাধারণ সমর্থকদের অভিমত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে যে মতভেদ দলের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তার অবসান দ্রুত করা না হলে হয়ত এ দুইটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে পরাজয়ের গ্লানি টানতে হতে পারে। কেননা উপায়ন্তর না দেখে নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী রফিকুল আলমের পক্ষে অধিকাংশ সমর্থক ও ভোটার ঝুকেঁ পড়তে পারে।