সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুরে ট্যাংকলরি-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৯জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের গাড়াদহে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-শাহজাদপুরের বড় মহারাজপুর গ্রামের হাচেন প্রামাণিকের স্ত্রী ওজিফা বেগম (৬০), জালাল উদ্দিন (৪০), তার স্ত্রী অঞ্জনা খাতুন (২৫), রেজাউল করিমের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৩৫), তারা মিয়ার স্ত্রী রেনু খাতুন (৪০), রজব আলীর কিশোরী কন্যা বন্যা খাতুন (১০), মকবুল হোসেন (৪০) এবং নসিম চালক আব্দুস সোবাহান (৪০), পূর্নি খাতুন (১৮)।
শাহজাদপুর থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, মঙ্গলবার সকালে লালমনিরহাটে তেল সরবরাহ করে একটি ট্যাংকলরি শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে ফিরছিল। এ সময় বিপরীত দিকে থেকে আসা বাঘাবাড়ি ২২জন যাত্রী নিয়ে গাড়াদহ এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষর্দর্শীরা জানান, ট্যাংকলরিটির সামনের চাকা ফেটে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নসিমনকে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর কর্মীরা সেখানে পৌছে হতাহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিত্সাধীন অবস্থা আরো তিনজন মারা যান। গুরুতর আহতদের মধ্যে চারজনকে বগুড়া হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো একজন মারা যান।
নিহত মকবুল হোসেনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই পরিবারের এই সকল সদস্যরা ঢাকা যাবার উদ্দেশ্যে একটি নসিমন চড়ে বাড়ি থেকে উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে যাচ্ছিলেন।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন জানান, নিহতদের প্রত্যেককে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এদিকে এর কয়েক ঘণ্টা পরেই এই স্থান থেকে এক কিলোমিটার দূরে সিএনজি অটোরিকাস-বাস সংঘর্ষে আরো একজন নিহত ও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শাহজাদপুর থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, ঢাকা থেকে নাইটস্টার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পাবনা যাবার পথে দুপুর ১২টার দিকে গাড়াদহ খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি অটোরিকশায় থাকা অজ্ঞাতনামা স্কুলছাত্রী নিহত এবং সিএনজির অন্তত চারজন যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীর সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে।
