প্রচারণায় দলীয় প্রতীককে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:৪০

কনকনে শীতের ভেতরও নির্বাচনী উত্তাপে জেগে উঠেছে জনপদগুলো। নৌকা আর ধানের শীষ প্রতীকের মাহাত্ম্য এবার পৌর নির্বাচনকে প্রায় জাতীয় নির্বাচনের সমতূল্য করে তুলেছে। দীর্ঘ ৭ বছর পরে নৌকা আর ধানের শীষের জনপ্রিয়তার পরীক্ষায় নেমেছে দুই বড় দল। বিএনপি বলছে, তাদের ভরসা ধানের শীষের জনপ্রিয়তা। তবে কোথাও কোথাও দলীয় প্রতীক ছাপিয়ে উঠছে প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজ।

 
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন ভোটাররা। তারা বহু বছর এই প্রতীকে ভোট দেয়ার সুযোগ পাননি। তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন দেয়ার একটাই কারণ ধানের শীষ প্রতীককে পরাজিত দেখানো।  এই নির্বাচনে যে তারা অনিয়ম করবেন এটা জেনেই আমরা নির্বাচনে গিয়েছি।
 
বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এবার যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে, তাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। আমরা ভরসা করছি দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষের’ ওপর। প্রচারণায় ধানের শীষকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কোথাও দলীয় কোথাও ব্যক্তি ইমেজে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। কোন কোন এলাকায় দলীয় পরিচিতি ছাপিয়ে ভোটারদের মাঝে ব্যক্তি পরিচিতিই প্রাধান্য পাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেক এলাকায় আমাদের প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। হুমকি  দেয়া হচ্ছে। গ্রেফতার করা হচ্ছে। প্রার্থীরা প্রচারণায় বেরুতে পারছেন না। প্রচার কর্মীরা আতংকে আছেন।
 
দলের একজন নেতা জানান, এবারের নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করেছে বিএনপি। ফলে শেষ মুহূর্তে এসে প্রার্থী বাছাইয়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বহু যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়েছেন। স্থানীয় সাবেক এমপি এবং সাবেক মন্ত্রীদের সুপারিশ রক্ষা করতে গিয়ে এমন সব প্রার্থী দেয়া হয়েছে যারা অজনপ্রিয়। স্বাভাবিকভাবেই তাদের ইমেজের চেয়ে ধানের শীষের ‘ইমেজ’ অনেক বড়। প্রচারণায় তাই ব্যক্তির চেয়ে ধানের শীষকে সামনে আনা হচ্ছে।
 

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য দলের একজন মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় গিয়েছিলেন ঢাকার বাইরে। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের একটা সুবিধা হয়েছে। নির্দলীয় নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থী কে? তার প্রতীক কি? এটা চেনাতে জানাতে ঘরে ঘরে যেতে হতো। যেহেতু মফস্বলে আমাদের সব প্রার্থী নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তাই ভোটাররা জানতে পারছেন কোন প্রতীকে তারা ভোট দিবেন। তারা আরও বলেন,গণসংযোগের সময় দলীয় বক্তব্যের পাশাপাশি পৌর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ, দল মতের উর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে আশ্বাস  দেয়া হচ্ছে।