নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস আজ

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:২৬
আজ ১০ ডিসেম্বর। নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস। এ দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে একুশে পরিষদ নওগাঁ। দিনের শুরুতে প্রথম প্রহর সকাল সাড়ে ৬টায় নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
 
একুশে পরিষদ নওগাঁ’র সভাপতি অ্যাড. ডিএম আব্দুল বারী বক্তব্য রাখেন। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম এম রাসেল, নাইস পারভীন, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রউফ পাভেল, সদস্য বিষ্ণু কুমার দেবনাথ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৩টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে।
 
উল্লেখ্য, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের পর নওগাঁর অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধরা সংগঠিত হয়। 
 
১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর রাণীনগর এবং ১২ ডিসেম্বর সান্তাহার হানাদার মুক্ত হলে নওগাঁয় বসবাসকারী সকল অবাঙ্গালিরা ১৪ ডিসেম্বরের রাতের মধ্যে স্বপরিবারে নওগাঁ কেডি স্কুলে নিরাপত্তাজনিত কারণে আশ্রয় নেয়। এ সময় হানাদার বাহিনী নওগাঁ ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, সাবেক থানা চত্বর আদালত পাড়া ও এসডিও বাসভবন চত্বরে আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তোলার কারণে নওগাঁ জনমানবশূন্য ছিল। ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পাক সেনারা আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা দিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সকাল থেকে চারদিক দিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। পরদিন রাত ৮টা পর্যন্ত যুদ্ধে চলে। হানাদার বাহিনী ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে। যুদ্ধে ৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। 
 
অবশেষে ১৮ ডিসেম্বর সকালে বগুড়া থেকে ভারতীয় মেজর চন্দ্রশেখর, পশ্চিম দিনাজপুর বালুরঘাট থেকে নওগাঁ পিবি রায়ের নেতৃত্বে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী নওগাঁয় প্রবেশ করে। এরপর নওগাঁ কেডি স্কুল থেকে পিএম গার্লস স্কুল ও সরকারী গার্লস স্কুল থেকে শুরু করে রাস্তার দু’পাশে মাটিতে অস্ত্র রেখে প্রায় দুই হাজার পাক সেনা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মিত্র বাহিনী কাছে আত্মসমর্পণ করে।
 
নওগাঁর বীরমুক্তিযোদ্ধারা বিজয় উল্লাসে “জয় বাংলা” ধ্বনি দিতে দিতে এসডিও অফিস চত্বরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন এবং উপস্থিত সালাম জানিয়ে সম্মান প্রদর্শণ করেন। এ দিনটিকে ঘিরে জেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, একুশে পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ‘নওগাঁ হানাদার মুক্ত’ দিবস পালন করে আসে।