পাবনার নয়টি পৌরসভার মধ্যে প্রথম দফায় সাতটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ছয়টি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ১২ জন ‘বিদ্রোহী’প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উভয় দলের নেতা-কর্মীরা।
পাবনার সাতটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ১৪ মেয়র এবং ওই দুই দলের ১২ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীসহ ৩৩ মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কেবল ঈশ্বরদী পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী রয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা পৌরসভায় মেয়র পদে পাঁচ বছর আগে বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হয়েছেন। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়ায় কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।
পাবনা পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হয়েছেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রকিব হাসান টিপু এবং বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলের জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা।
সুজানগর পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. তোফাজ্জল হোসেন তোফা ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আফসার আলী মোল্লা।
সুজানগরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আর বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আযম আলী বিশ্বাস।
সাঁথিয়ায় মেয়র পদে বর্তমান মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক আওয়ামী লীগ প্রার্থী এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।
সাঁথিয়া পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আশিক ইকবাল রাসেল, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কৃষক লীগের সাবেক নেতা নফিজ উদ্দিন।
ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ খান। ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান বিএনপির এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে গোলাম হাসনায়েন রাসেল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
চাটমোহরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা রেজাউল করিম দুলাল এবং বিএনপির বিদ্রোহী সাবেক মেয়র উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল মান্নান। চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আবদুর রহিম কালু বিএনপির ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাখো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
ফরিদপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আলাল এবং বিএনপি নেতা মো. বাবুল হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
ফরিদপুর পৌরসভায় বর্তমান মেয়র খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ আওয়ামী লীগের এবং মো. এনামুল করিম বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পাবনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, চাটমোহরে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল মান্নান, সুজাগরে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বিশ্বাস ও সাঁথিয়া
উপজেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
