তারুণ্যের দেশ বাংলাদেশ যার প্রধান সম্পদ জনসংখ্যা, এ কথা বলতে গেলেই পপুলেশন ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যা বোনাসের কথা চলে আসে যা বাংলাদেশ পেয়েছে দীর্ঘ ১৫০ বছর পর। বিশ্বায়নের এ যুগে বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ ২০১২ সাল থেকে এর সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেছে। এখন প্রশ্ন জাগে, তারুণ্যের সম্ভাবনা কেমন হতে পারে? কী করতে পারে এই তরুণ প্রজন্ম?
সম্প্রতি মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ অগ্রগতির ফলে ১৩৬ তম হয়েছে; অন্যদিকে মানব উন্নয়ন কর্মসূচি ২০২১ বাস্তবায়নে,বিশেষ করে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ)১৯২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আগামী এক দশকে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কর্মক্ষম দক্ষ মানুষ নিয়ে শ্রম বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
দেশটির তরুণ-তরুণীদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই কোনো কাজ করছে না,আবার পড়াশোনাও করছে না(ইত্তেফাক)যার ফলে বেকারত্ব বেড়েই চলেছে। UNDP(২০১৮)এর মতে,বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৮ লক্ষ যার মধ্যে ৬৬% কর্মক্ষম এবং ৬৩% যাদের বয়স(১৫-৬৪)বছর এবং যেটি বেড়ে ২০৩০ সালে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০% হবে। ২০৫০ সালের পর থেকে কর্মক্ষম মানুষ কমতে থাকবে। তখন তারুণ্যের এত বেশি জয়জয়কার ধ্বনি থাকবে না ফলে বয়স্ক জনসংখ্যা দিন দিন বেড়ে গিয়ে জনসংখ্যা দেশটির জন্য বোঝাতে পরিণত হবে। এদিকে প্রত্যাশিত গড় আয়ু ও স্বাক্ষরতার হার বাড়লেও অর্থনৈতিক বার্ষিক আয় কমতে থাকবে।
বাংলাদেশের বর্তমান ৪০% নতুন তরুণ যাদের বয়স ২০ বছরের নিচে,এদের যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে বা মানব সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে মানব সম্পদে পরিণত করতে পারলেই কেবল বেকারত্বসহ অনেক বিষয় সমাধান সম্ভব।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও জনসংখ্যার স্বর্ণযুগের কারণে বিশ্ব আজ বাংলাদেশের মতো ছোট রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে যদিও দেশে দৃশ্যমান গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় নেই তার পরও দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে অন্য দিকে বেড়েছে ধনী-গরীবের বৈষম্য।
বর্তমানে ১ কোটি বেকার বা ছদ্ম বেকার, সেই সঙ্গে প্রতি বছর ২০-২২ লক্ষ তরুণ-তরুণী কাজের বাজারে প্রবেশ করছে যার ফলে সরকার সেই পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছে না, অন্যথায় এ সমস্যা সমাধান করতে হলে প্রতি বছরে ৩০ লক্ষ বেকারের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে যেটা বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের পক্ষে মানব সম্পদ উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে সম্ভব নয়। অন্যদিকে সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ সরকারি চাকরিও দিতে পারছে না। তাই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদেরকে উদ্যোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষিত বেকারত্বের জায়গা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে পড়া-লেখার গুণগত মান আধুনিকায়ন,বিষয়ভিত্তিক পেশাদারিত্ব এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সত্যিকার অর্থে, পপুলেশন ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যা বোনাসকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব— কারণ তারুণ্যের শক্তিই, “বাংলাদেশ”।
লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
