বিএনপি অভিযোগ করেছে, পৌরসভা নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের মেয়র প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর আক্রমণ বাড়ছে। ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে প্রতিপক্ষের প্রার্থীরা। বেশ কিছু স্থানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। বেশ কিছু পৌরসভার ধানের শীষের প্রার্থীরা দাবি করেছেন, তাদের প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে কর্মীদের এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত: ১২-১৫ টি হামলা-সহিংসতার খবর আসছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের দায়িত্বশীল নেতারা।
গতকাল রবিবার দেশের বিভিন্ন পৌরসভা থেকে হামলা-হাঙ্গামার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা। এর মধ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী খলিলুর রহমান, নোয়াখালীর চৌমুহনীর মেয়র প্রার্থী হারুন উর রশির ও চট্টগ্রামের মিরেরসরাই রারৈয়ারহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মঈনউদ্দিন লিটনের ছোট ভাই এর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু পৌরসভায় দলের প্রার্থী জিন্নাতুল হক খানের পক্ষে ভোট চাওয়ায় যুবদল নেতা আজম মন্ডলকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। নাটোরের সিংড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী শামীম আল রাজী মো. সিহানূর রহমানের নির্বাচনী অফিস বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ দলের নেতাকর্মীরা। এসময় সিনিয়র আইনজীবী হারুন অর রশিদকে লাঞ্ছিত করা হয়। কোন মামলা না থাকলেও আটক করা হয়েছে পৌরসভা ওলামা দলের সভাপতিকে।
রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভায় প্রচারের সময় দলের মেয়র প্রার্থী তোজাম্মেল হকের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। শনিবার রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী নাসির উদ্দিনের বাড়িতে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ পৌরসভায় দলের মেয়র প্রার্থীর মিছিলে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এসময় সকল পোস্টার ছিঁড়ে নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়েছে।
রাজশাহীতে কাঁটাখালীতে ধানের শীষের নির্বাচনী এজেন্ট মনিরুজ্জামান দুলাল ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি কায়সার মাহমুদ রিপনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার লাকসামে প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। বরিশালের বাকেরগঞ্জে হামলায় ৫ কর্মী আহত হয়েছে। ভোলার বোরহানউদ্দিনে দলের মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। নেত্রকোনায় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানোয় এক মিষ্টি ব্যবসায়ীর দোকান ভাঙচুর করা হয়।
বিএনপির মনিটরিং সেলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, প্রায় প্রতিটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা ধানের শীষের প্রার্থী এবং তার প্রচারকর্মীদের ওপর আক্রমণ করছে। এর সামান্য তথ্যই আসছে আমাদের কাছে। হামলা-হাঙ্গামার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছে না।
এদিকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারি দলের প্রার্থীর লোকেরা হত্যা, সন্ত্রাস, আচরণবিধি লঙ্ঘন, বিপক্ষ প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির নৈরাজ্যময় পরিস্থিতি সৃষ্টির অপকীর্তি বন্ধ করছে না। আর সরকারের চাওয়া-পাওয়ার প্রতি লক্ষ্য রেখেই নির্বাচন কমিশন যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত করছে।
মনিটরিং সেল:পৌরসভা নির্বাচনের যাবতীয় অভিযোগ, অনিয়ম ও সকল তথ্য দলের মনিটরিং সেলের নিম্নোক্ত ফোন-ফ্যাক্স নম্বর ও ইমেইল ঠিকানায় জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। ফোন নম্বর ০২-৯৮৮৩১৯৯১, ফ্যাক্স নম্বর ০২-৯৮৮৩৪৫২ এবং ইমেইল ঠিকানা [email protected]. গতকাল দলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
