টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবয়নে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
সোমবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘এসডিজির স্থানীয়করণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও হাঙ্গার প্রজেক্ট আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সভাপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলী খান বলেন, এসডিজির পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবয়নের ক্ষেত্রে আগে স্থানীয় সরকারগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব থেকে বেরিয়ে সঠিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে হবে।
২০০০ সালে জাতিসংঘ প্রণীত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসে। জানুয়ারি থেকেই শুরু হবে আরও বৃহৎ পরিসরে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) কর্মপরিকল্পনা; যার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
গোলটেবিল আলোচনায় আরো অংশ নেন হাঙ্গার প্রজেক্টের আবাসিক পরিচালক বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিনস। কয়েকজন স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাও তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আকবর আলি খান বলেন, এমডিজির বাস্তবায়ন সম্পর্কে যা শোনা যাচ্ছে তার বিপরীতটাও সত্য। আমরা অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে পেরেছি সত্য। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু এখনও বাকি রয়ে গেছে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সুশীল সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয়ে সরকার এই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়ন ঘটাবে।
এসডিজির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আগের আট দফার পরিবর্ততে এখন ১৭টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, যার আলোকে উন্নয়ন কাজ হবে।
এর মধ্যে ১ থেকে ৭ নম্বর সাধারণ মানুষের জন্য, ৮ থেকে ১১ নম্বর অর্থনীতি বিষয়ক, ১২ থেকে ১৫ নম্বর পৃথিবী ও পরিবেশ বিষয়ক, ১৬ নম্বরে রয়েছে সমাজ বিষয়ক পরিকল্পনা এবং সর্বশেষ ১৭ নম্বরে রয়েছে অংশীদারিত্ব বিষয়ক পরিকল্পনা। এসব দফার অধীনে আছে ১৬৯টি ধারা।
অনুষ্ঠানে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপেজেলার বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, এমডিজির অনকে পরিকল্পনাই বাংলাদেশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে; যার প্রশংসা শোনা যাচ্ছে জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতাদের মুখে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার প্যানেল মেয়র রাশেদা আখতার বলেন, রাজনৈতিক নেতা ও এমপিদের প্রভাবের কারণে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এগুলো অন্যতম বাধা।
ঢাকায় ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, এসডিজির পরিকল্পনাগুলো সত্যিই জটিল ও বিশাল। তবে কঠোর পরিশ্রম করতে পারলে এর বাস্তবায়ন সম্ভব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এমডিজির কিছু পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এসডিজি নিয়ে কথা বলার আগে অবশ্যই সেই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আবার সব কিছু স্থানীয় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। কেন্দ্রীয় সরকারেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে এতে।
