কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই মো. হোসাইন, কনস্টেবল মনির হোসেনসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ঢাক-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার বিকাল সোয়া চারটার দিকে চৌদ্দগ্রাম বাজারে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনামের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনামের সমর্থকরা বিকালে চৌদ্দগ্রাম বাজারে মিছিল বের করে। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমানের সমর্থনে আলকরা ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাচ্চু কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ শেষে ফিরছিলেন। এ সময় উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে প্রথমে বাক্বিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে ফাঁকা গুলির শব্দে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় পাঁচটি মাইক্রোবাস ও ১২ টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে সংঘর্ষকারীরা। ভাঙচুর করা হয় অন্তত ৩০ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষ ফাঁকা গুলি ও শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। আহত হয় অর্ধশতাধিক। এ সময় ঢাক-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
