পেনশন নিতে ইএফটি জটিলতায় সদ্য অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারীরা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ২১:২১

 

 

 নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস

সদ্য অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারীদের সরাসরি নিজ ব্যাংক হিসাবে মাসিক পেনশন ভাতা প্রাপ্তির ব্যবস্থা করতে পারছে না হিসাব রক্ষণ বিভাগ। প্রায় দুই মাস ধরে পিরোজপুর জেলা সদরে পেনশনে যাওয়া কর্মচারীরা এখন সমস্যা সমাধানের অপেক্ষায় আছেন।

জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) সিস্টেমের সফটওয়ারে ক্রটির কারণে ইন্টারনেট অনলাইনে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের সাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এ কারণে সম্প্রতি চালু হওয়া স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় পেনশনে যাওয়া কর্মচারীরা নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে মাসিক পেনশনভাতা প্রাপ্তির সুবিধা পাচ্ছেন না অবসরভোগীরা। এ সুবিধা পুরোপুরি চালু হলে অবসর ভোগীদের কোনো দুর্ভোগ থাকবে না।

জানা গেছে, ১৫ বছর আগের পূর্ণ অবসর ভাতা সমর্পণকারী সকল কর্মচারীর নতুন করে পূর্ণাঙ্গ ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতি চালু রয়েছে। এর বাইরে একটি বাদে অন্যসব জেলা সদরে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে সদ্য অবসরগ্রহণকারীরা মাসিক ভাতা গ্রহণ নিয়ে দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগের মধ্যে আছেন। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মচারী জানান, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রতিদিন ভুক্তভোগীদের কেউ না কেউ ধরনা দিচ্ছেন।

জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পেনশন প্রাপ্তির যাবতীয় কাজ তারা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করে দিয়েছেন এবং অবসর গ্রহণকারীদের এককালীন আনুতোষিকের অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর থেকে ইএফটি চালুর বিষয়ে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে জটিলতার দ্রুত সুরাহা হয়। হিসাবরক্ষণ বিভাগের প্রধান কার্যালয়ের ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ম্যানেজমেন্ট শাখার হেল্প লাইন নম্বরে যোগাযোগ করলে তারা জানান, জেলায় ইএফটি চালু না হওয়ায় চেকের মাধ্যমে মাসিক পেনশন পরিশোধ করা যাবে। অবসরভোগী অনেকের এক থেকে চার মাসের ভাতা বকেয়া পড়ায় ব্যক্তিগত জরুরি ওষুধপত্র কেনা এবং অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জেলা সদরে ভুক্তভোগীদের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সাবেক কর্মচারীরা বর্তমানে নতুন প্রচলিত ইএফটি পদ্ধতিতেই পেনশন গ্রহণ করতে চান। কারণ নির্দিষ্ট তারিখে সোনালী ব্যাংক থেকে পেনশন তোলা ঝক্কির কাজ এবং ভিড় বেশি থাকায় টাকা হাতে পেতে সময় লাগে।

তবে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মফিজুল ইসলাম জানান, তারা স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে অবসরভোগীদের চেক প্রদানের মাধ্যমে দ্রুত মাসিক পেনশন প্রদানের ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে করে আপাতত সমস্যার সমাধান হলেও ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতি শীঘ্রই চালু হচ্ছে না।