বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারকে ‘জনবিচ্ছিন্ন এবং অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, আজকে লজ্জা হয় যে অনির্বাচিতরা দেশ চালাচ্ছেন। এ সরকারের হাতে রক্ত, রক্ত আর রক্ত। আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করি। আল্লাহ আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদেরও চেষ্টা করতে হবে। কোনো স্তরের মানুষ ভালো নেই, মা-বোনসহ। আসুন আমরা আরেকবার জেগে উঠি। শিগগিরই এদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ জেগে উঠবে এবং দেশের এই দুঃসহ অবস্থার পরিবর্তন হবেই। তিনি তরুণদের এই সরকারের বিরুদ্ধে একাত্তরের মতো জেগে ওঠার আহ্বান জানান। বেগম জিয়া আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে খালেদা জিয়া ‘নির্বাচিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাহসী মানুষের ঐক্য ও আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই’ শীর্ষক এই সমাবেশে যোগ দেন। মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে তাকে ক্রেস্ট দেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের পক্ষ থেকে জানানো হয় ফুলেল শুভেচ্ছা।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজীজ উলফাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি ফজলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, পৌরসভায় যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তো বিএনপি ৮০ শতাংশ ভোট পাবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও জানেন না তাদের নৌকা ডুবতে বসেছে। নৌকার মধ্যে কত গণ্ডগোল। দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন সরকারের ফন্দি। সরকার নির্বাচন ছিনতাই করে দেখাবে জনগণ ধানের শীষের পক্ষে নেই। সব নৌকার পক্ষে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, দেশে এই মুহূর্তে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। ২০০৮ সালের পর থেকে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। আর ২০১৪ সালের পর থেকে তা আরো খারাপ হয়েছে। বিএনপি কোনো নির্বাচনই বর্জন করতে চায় না। কিন্তু আমরা জানতাম ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচনে গেলে আমাদের কোনো এজেন্টও বসতে দেবে না। জনগণকে ভোট দিতে দেয়া হবে না। সেজন্য যাইনি।
পৌর নির্বাচনে আইন ভঙ্গ হচ্ছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই বোবা-অযোগ্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ জন্য চাই সেনা মোতায়েন। পুলিশের বা প্রশাসনের সব লোক খারাপ না, কিছু দুষ্টু লোকের জন্য এই অবস্থা হচ্ছে। তাই তো সেনা মোতায়েনের দাবি করছি।
স্বপ্নের পদ্মাসেতু স্বপ্নই থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, পদ্মাসেতু হবে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া দিয়েও সেতু হবে। সেতু বাস্তবায়নের মানুষ এ দেশে আরো আছে। আমরা এসে দুইটি সেতু করবো। বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিএনপিও চায়। কিন্তু তা হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের ও স্বচ্ছ। এখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র দেখার জন্য, যেখানে থাকবে ন্যায়বিচার এবং সুশাসন। কিন্তু আজ দেশে সুশাসন এবং ন্যায়বিচার অনুপস্থিত। আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দেশে নৈরাজ্য চালাচ্ছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় সৈনিকদের জুতা ছিল না, কম্বল ছিল না। তাদের ঠিক মতো খাবার দেয়া হতো না। তারপরও এই সৈনিকরা দেশকে ভালোবেসে যুদ্ধ করেছে। দেশ স্বাধীন করেছে।
ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি এবং আমার ওপর জুলুম অত্যাচার করা হয়েছে। তারেকের কী অবস্থা করেছে আপনারা দেখেছেন। তিনি বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ ও লতিফুর রহমানের উদাহরণ টেনে বলেন, গুণী এই মানুষদেরকে আওয়ামী লীগ অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করেছে। আওয়ামী লীগ গুণীদের সম্মান করতে জানে না।
সমাবেশে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, দাওয়াত দিয়েও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীককে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এ জন্য তিনি সরকারকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। আন্দোলনে সফল হতে ভুলভ্রান্তি ভুলে দলের সবাইকে ফিরিয়ে আনতে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে তিনি খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দেন।
বিএনপি নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তত পাঁচটি জেলা পরিদর্শন করুন। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে সাহস বাড়বে। গুলশানের অন্তরীণ অবস্থা থেকে আপনাকে (খালেদা জিয়া) রাজপথে নামতে হবে। তাহলে আন্দোলন সফল হবে। না হলে সবার কাছে আপনি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বেন।
