আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা বিভাগে অবৈধ অস্ত্রধারী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, বোমা প্রস্তুতকারক ও পলাতক দাগী আসামিদের গ্রেফতারে অচিরেই অভিযান শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে দিয়েছে খুলনা রেঞ্জ পুলিশের বিশেষ শাখা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশের মত খুলনা বিভাগের ২৯টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ ও নির্বাচন পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্যই এ অভিযান পরিচালিত হবে। খুলনা রেঞ্জ ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচন হলেও এখনো বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা নেয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রীতি অনুযায়ী এক সপ্তাহ আগে অর্থাত্ আজ বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত থেকে জমা নেয়া হতে পারে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। আর অস্ত্র জমা না নেয়া হলেও এর ব্যবহারে থাকছে কঠোর বিধি-নিষেধ।
সূত্র আরো জানায়, পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সন্ত্রাসী তালিকা করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আবারও প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসেছে। প্রশাসনের কাছে পূর্বে অস্ত্র জমা দেয়া ব্যক্তিদের কাছেও রয়েছে অবৈধ অস্ত্র। জামিনে থাকা বা পলাতক দাগী আসামিরাও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধীরা বর্তমানে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে তথ্য রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে খুলনা রেঞ্জের ১০ জেলা, খুলনা মহানগরীর আটটি থানা এলাকা এবং জেলার নয়টি থানা পর্যায়ে অস্ত্রধারী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, বোমা প্রস্তুতকারক ও পলাতক আসামিদের চার ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।
রেঞ্জের তালিকা অনুযায়ী খুলনা বিভাগের দশ জেলায় মোট সন্ত্রাসী ও চরমপন্থি ২ হাজার ৭৫৪ জন। এরমধ্যে খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় ২২২ জন ও জেলায় ৬২৩ জন, বাগেরহাটে ৩৬৩ জন, সাতক্ষীরা জেলায় ২২৫ জন, যশোর জেলায় ২৮৪ জন, ঝিনাইদহ জেলায় ৪৩৪ জন, মাগুরা জেলায় ৯২ জন, নড়াইল জেলায় ৭১ জন, কুষ্টিয়া জেলায় ১৭২ জন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২১০ জন এবং মেহেরপুর জেলায় ৫৮ জন সন্ত্রাসী ও চরমপন্থি রয়েছে বলে রেঞ্জ পুলিশের সূত্রে জানা গেছে। তবে হালনাগাদে এ তালিকা কম-বেশি হতে পারে। অভিযানের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি পুলিশ। ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পদস্থ একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দু’-একদিনের মধ্যেই অভিযান শুরু হবে। প্রস্তুতকৃত তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলনা জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তাছাড়া চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভার সার্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আমরাও তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।
খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, পৌর নির্বাচনে যাতে সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সে জন্য পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি এসএম মনির-উজ-জামান বলেন, পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। কালো টাকা ও পেশীশক্তি প্রতিরোধে পুলিশ সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে।
