নৌবাহিনীর কাছে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ড্রাইডক

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:৩৮
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি) পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিঃ (সিডিডিএল) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হচ্ছে। আজ বুধবার চট্টগ্রাম ড্রাইডক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। গত ৯ জুলাই শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে চট্টগ্রাম ড্রাইডককে নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করার জন্য বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনকে জানানো হয়।
 
১৯৬৩ সালের পরিকল্পনা এবং ১৯৬৬ সালে তত্কালীন যুগোস্লাভ সরকারের কারিগরি সহায়তায় চট্টগ্রাম ড্রাইডক নির্মিত হয়। কিন্তু ড্রাইডক ১৯৮৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী সিডিডিএল-এ জাহাজ মেরামতের পাশাপাশি নতুন জাহাজ নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু প্রথমে শুধু জাহাজ মেরামতের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে সিডিডিএল দুটি মাল্টিপারপাস কন্টেইনার জাহাজ নির্মাণ সম্পন্ন করার পথে। বিআইডব্লিউটিসি’র কার্যাদেশের ভিত্তিতে প্রায় ৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জাহাজ দুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে জাহাজ দুটি হস্তান্তর করা হবে।
 
চট্টগ্রাম ড্রাইডক অনেকদিন যাবত্ লোকসান করে আসলেও ২০০১ সাল থেকে এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ড্রাইডক ২০ হাজার ডিডব্লিউটি ক্ষমতাসম্পন্ন সমুদ্রগামী জাহাজ এবং ট্রলার ও  কোস্টাল ভেসল মেরামতসহ ভাসমান জাহাজ মেরামত করে আসছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভারি স্টিল অবকাঠামো, কল-কারখানার যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামত, সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য পোর্টেবল স্টিল ব্রিজ, ফুট ওভার ব্রিজ এবং বিদ্যুত্ সরবরাহ টাওয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের স্ট্রাক্চার তৈরি, মেরামত করে আসছে। বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবারও উত্পাদন টার্গেট এবং আর্থিকভাবেও লাভ করেছে। ৩৫৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাইডককে আর্থিকভাবে লাভবান ও কর্মক্ষম করে তোলার জন্য বর্তমানে বিদ্যমান ১৮২ দশমিক ৯ মিটার দৈর্ঘ্য, ২৭ দশমিক ৭৪ মিটার প্রস্থ ও ১৩ দশমিক ১ মিটার গভীরতাবিশিষ্ট ডকের পরিবর্তে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৪০ মিটার প্রস্থ ও ১৫ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট নতুন ডক নির্মাণের ৪৭৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চট্টগ্রাম ড্রাইডক জাহাজ ও অন্যান্য নৌযান ও প্রকৌশল অবকাঠামো নির্মাণই নয় বরং এর সাথে বিরাট সংখ্যক মানব সম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছে। ওয়েল্ডিং, নৌ-প্রকৌশলী টেকনেশিয়ানসহ দক্ষ জনবল গড়ে তুলছে।