দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী আজাদুল ইসলামকে সন্ত্রাসীরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১১টার দিকে শহরের ইসলাম পাড়ায় তিনি এ হামলার শিকার হন। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোলজি বিভাগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন।
জানা গেছে, পৌর বিএনপির সভাপতি বর্তমান মেয়র ও বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী আজাদুল ইসলাম মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাসায় চলে যান। পৌর বিএনপির ৪নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি মুক্তার হোসেন অসুস্থ্ হয়ে পড়লে আজাদুল ইসলাম রাত ১১টার দিকে তাকে দেখতে একাই রিকশাযোগে শহরের ইসলাম পাড়ায় যান। সোয়া ১১টার দিকে মুক্তারের বাসা থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২-৩ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী চাপাতি ও বড় ছুড়ি নিয়ে তার ওপর হামলা করে। এতে মেয়র মাথায় ও বাম হাতে রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হয়ে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে বিরামপুর হামপাতালে ভর্তি করায়।
ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা আজাদের সঙ্গে থাকা রিকশা চালক জয়নালকে (৫০) মাথায় ছুরিকাঘাত করে। খবর পেয়ে বিএনপির কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক হাসপাতাল চত্বরে সমবেত হন।
ওসি আমিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ভিড় সামলাতে হিমশিম অবস্থায় পড়েন। বিরামপুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাকালে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহত আজাদ সংকটাপন্ন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোলজি বিভাগে ডা. তোফাজ্জল হোসেনের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার রংপুর হাসপাতাল থেকে বিরামপুর পৌর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিরণ আলম জানান, বিরামপুর পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ তথা আজাদুল ইসলামের বিজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে প্রতিপক্ষরা হত্যার উদ্দেশ্যে আজাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।
এদিকে বুধবার সকালে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিজানুর রহমান, সার্কেল এএসপি ফয়জুর রহমান ও থানার ওসি আমিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ওসি আমিরুজ্জামান জানান, অনাকাঙ্কিত ঘটনা এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার বেলা ২টায় বিরামপুর দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
