পর্নো ছবিতে কাজ করলেই সিরিয়ালে অভিনয়ের সুযোগ নিশ্চিত, এই প্রলোভন দেখিয়েই ভারতের তরুণ-তরুণীদের কাজ করানো হচ্ছে নিষিদ্ধ ছবিতে । সেক্ষেত্রে নারীদের দৈনিক পারিশ্রমিক ৫ হাজার টাকা। আর পুরুষের পারিশ্রমিক দৈনিক আড়াই হাজার টাকা। সোমবার ভারতের সল্টলেকের একটি বাড়ি থেকে পর্নোগ্রাফি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ২৮ জনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় , শহরে এইভাবে পর্নোগ্রাফি শুটিং এবং চক্র বেড়ে ওঠার পিছনে রয়েছে বড়সড় কোনও চক্র। আটকদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রথমে সিরিয়ালের টোপ দিয়ে টানা হয় জুনিয়র আর্টিস্টদের। এরপর নীল বা পর্নো ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দেয়া হত ওয়েবসাইটে। আটকদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, পর্নোছবি তৈরির জন্য এই চক্রের টার্গেট উঠতি জুনিয়র আর্টিস্টরা।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধুমাত্র কলকাতা নয়, দুই চব্বিশ পরগনা, নদিয়া, বীরভূম সহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ ধরেই পর্নোগ্রাফির শুটিং করে আসছে চক্রটি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, ১০ থেকে ১৫ মিনিটের ছোট পর্নো ছবি বা সেমি পর্নো তৈরি হত। আর সেগুলো পাঠানো হত দিল্লির একটি সংস্থাকে। ওই সংস্থাটি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছবিগুলি আপলোড করতো। সেক্ষেত্রে মুনাফা ভাগ হত অর্ধেক করে। এই পর্যন্ত চক্রটি প্রায় ৬০টি পর্নোছবি তৈরি করেছে। চক্রটির সিনেমাটোগ্রাফির লাইসেন্স ছিল না। দিল্লির ওই সংস্থা সম্পর্কে ইতোমধ্যে খোঁজ নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। চিঠি দেয়া হয়েছে ওয়েবসাইটগুলোকেও।
এই চক্রটি শুধু পর্নো ছবিই তৈরি করে না এর পাশাপাশি তারা বাংলাদেশ, নেপালে পর্নো ছবির সিডিও পাচারের সাথে জড়িত। বিধাননগরের গোয়েন্দাদের অনুমান, গোটা চক্রের পিছনে রয়েছেন প্রভাবশালী কোনও ব্যক্তি।
