সালিশের নামে ভ্যান চালককে পিটিয়ে মারল যুবলীগ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ২৩:৩৬
আশুলিয়ায় পাওনা টাকা নিয়ে এক সালিশী বৈঠকের মধ্যে মঈনউদ্দিন (২৮) নামের এক ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা। এ সময় মোর্শেদ নামের এক প্রতিবেশী মঈনউদ্দিনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও বেদম মারধর করা হয়।  মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুত্ মন্ডল মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ভ্যানচালক মঈনউদ্দিন শেরপুর জেলার নকলা থানার দনাকুসা গ্রামের জয়নুদ্দিনের ছেলে। আহত মোর্শেদ বলেন, সুদের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে সুদে মঈনউদ্দিন তিন হাজার টাকা নেয়। রফিক এ টাকা ২১ ডিসেম্বর চাইলে সে ঐদিন ১ হাজার টাকা  এবং কয়েকদিন পর বাকি টাকা দিবে বলে জানায়। কিন্তু তিন হাজার টাকা একত্রে দাবি করে রফিক। এ নিয়ে মঈনউদ্দিন ও রফিকের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে সুদের ব্যবসায়ী রফিক এলাকার যুবলীগ নেতা হাসান মন্ডলের  কাছে বিচার দিলে হাসান মন্ডল ভ্যানচালক মঈনউদ্দিন ও মোর্শেদকে বিচারের জন্য মন্ডল মার্কেট এলাকায় ডাকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ডল মার্কেটের সামনে মঈনউদ্দিন ও মোর্শেদ উপস্থিত হওয়া মাত্রই যুবলীগের সদস্য মেহেদী, মামুন, মান্নান, তুষার, পারভেজ, মানিক, সুমন লোহার রড ও ইট দিয়ে তাদের উপর হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেয়। একপর্যায়ে মঈনউদ্দিন ও মোর্শেদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পলাশবাড়ী হাবিব ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এসময় কর্তব্যরত চিকিত্সক মোর্শেদকে ক্লিনিকে ভর্তি করলেও মঈনউদ্দিনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর জন্য বলেন। মঈনউদ্দিনকে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। এ খবর পেয়ে যুবলীগ নেতার লোকজন মঈনউদ্দিনের স্ত্রী পোশাক শ্রমিক রূপালীকেও হত্যার হুমকি দিলে প্রাণভয়ে সে স্বামীর লাশ নিজ গ্রামের বাড়ি শেরপুরে নিয়ে গেছেন।
 

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা হাসান মন্ডল বলেন, মারামারির সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। তবে তাদেরকে বিচারের জন্য আমি ডেকেছিলাম। আমি উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়্। এতে মঈনউদ্দিন ও মোর্শেদ গুরুতর আহত হয়। পরে মঈনউদ্দিন মারা যায়। ঢাকা জেলার সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুরের নকলা থানাকে বলা হয়েছে।