নাশকতারোধে ভাড়াটিয়াদের ছবিসহ ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:৪০
জননিরাপত্তা ও নাগরিকদের আইনগত সেবা প্রদানের জন্য বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়াদের ছবিসহ নতুন ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের ছবিসহ পরিচিতি এবং জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহে মাঠে নেমেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে রাজধানীসহ মেট্রোপলিটন শহরগুলোর সবকটি থানায় এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি থানা এলাকায় বাড়িওয়ালাদের কাছে থানা থেকে বিট ভাগ করে ভাড়াটিয়াদের জন্য ফরম পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ভাড়াটিয়াদের তথ্য পুলিশের কাছে জমা দিতে বাড়ির মালিকদের উদ্বুদ্ধ করতে মহল্লায় মহল্লায় মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে মেসবাড়ি এমনকি ছাত্রাবাসগুলোয় বসবাসকারীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সদস্যরা।
 
একইভাবে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল জেলা ও থানা শহরগুলোতে এ ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। পুলিশ কর্তারা বলছেন, বাড়িওয়ালারা পুলিশের এ নির্দেশনা মানলে অপরাধীরা বাসা ভাড়া নিতে সাহস পাবে না। এতে করে বাড়িওয়ালাদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে বাসাভিত্তিক মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গি তত্পরতা অনেকাংশেই কমে যাবে। এ ব্যাপারে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার ইত্তেফাককে বলেন, উন্নত বিশ্বে এ ধরনের ডাটাবেজ পুলিশের কাছে থাকে। নাগরিক নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের ডাটাবেজ পুলিশের কাছে থাকা জরুরি, যাতে নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল থাকতে পারে। অপরদিকে সন্ত্রাসীদের উপর নজরদারি রাখাও সহজ হয়। এতে শহরে খুন-খারাবি, চুরি-ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা সহজ হবে। তাই ঢাকা মহানগরের সকল থানায় পুলিশ বিভাগ থেকে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ছবিসহ নতুন ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নাগরিকদের সচেতন করতে এ ব্যাপারে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সাথে রাজধানীর মহল্লায় মহল্লায় সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি করছে পুলিশ।
 
পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, বিভিন্ন ধরনের জঙ্গি কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা থেকে দেখা গেছে পরিচয় গোপন রেখে ভাড়াটিয়ারা বাসা ভাড়া নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালায়। বিশেষ করে ঢাকায় বসে ধর্মীয় উগ্রবাদে দীক্ষিত আর অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষিত দুর্ধর্ষ জঙ্গি ও অপরাধীরা ধারাবাহিকভাবে খুন-খারাবিসহ নানা নৃশংস অপরাধ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের পর এ ব্যাপারে প্রচুর তথ্য পাওয়া গেছে। অপরদিকে জঙ্গি তত্পরতা ছাড়াও ডলার, জাল টাকা, ভিওআইপি, হুন্ডি ও মাদক ব্যবসা, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, সোনা চোরাচালান, হত্যা, অসামাজিক ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক অপরাধের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে অপরাধীরা রাজধানীকে নিরাপদ মনে করে। সে কারণে ভাড়াটিয়াদের তথ্য পুলিশের কাছে থাকা জরুরি। এক্ষেত্রে বাড়ির মালিকরা নিজেদের এবং সমাজের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে।
 
ডিএমপি সদর দফতর সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর প্রতিটি থানা থেকে প্রদান করা ফর্মে ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাট-বাসার বিবরণ ও ঠিকানা, ভাড়াটিয়া পরিবারের প্রধানের ছবিসহ নাম ও স্থায়ী ঠিকানা, জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের টেলিফোন নম্ব্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্ব্বর, পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম ও পরিবার প্রধানের সঙ্গে তাদের কি সম্পর্ক, বর্তমান আবাসনে আসার তারিখ এবং সম্ভাব্য অবস্থানকাল, সদ্য ছেড়ে আসা আবাসনের ঠিকানা (আবাসন মালিকের ফোন নম্ব্বরসহ), পরিবারের প্রধানের পেশা ও বর্তমান কর্মক্ষেত্রের ঠিকানা, কর্মক্ষেত্রের টেলিফোন নম্ব্বর, ভাড়াটিয়া পরিবার প্রধানকে শনাক্তকারী রাজধানীতে বসবাসকারী একজন এবং তার পৈতৃক বাড়ি এলাকার একজনসহ দুই ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা (ফোন নম্ব্বরসহ) ও ভাড়াটিয়া পরিবার প্রধানের পূর্ণ স্বাক্ষর চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ফরমের আগের অংশে বাড়ি মালিকের নাম, স্থায়ী ঠিকানা (টেলিফোন নম্ব্বরসহ), জাতীয় পরিচয়পত্র নম্ব্বর, বাড়ি মালিকের বর্তমান আবাসস্থল (ঠিকানা ও ফোন নম্ব্বরসহ), বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্ব্বর এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা প্রদান করতে বলা হয়েছে।
 

ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তত্পরতা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর বাসিন্দাদের সম্পর্কে তথ্য সংরক্ষণে ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এ ধরনের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বাড়ি মালিকদের উদাসীনতায় সে উদ্যোগে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বাড়ি ও অফিস ভবনে অবস্থানরত ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পুলিশকে জানাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্ধারিত ফরম পৌঁছে দেয়া হলেও অধিকাংশ বাড়ির মালিকই ভাড়াটিয়াদের দিয়ে সেগুলো পূরণ করাননি। বিশেষ করে ঢাকার নিম্ন-আয়ের মানুষদের আবাসস্থল ঘনবসতি এলাকাগুলোর বাড়িওয়ালারা তথ্য প্রদান করেননি।