চিকিৎসক দেখিয়ে বাসায় ফেরার পথে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা গেছেন প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল খালেক।
দৈনিক জনকণ্ঠের সাবেক চিফ রিপোর্টার আবদুল খালেকের বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। মিরপুর সাংবাদিক কলোনি মসজিদে বাদ মাগরিব আবদুল খালেকের প্রথম জানাজা হবে। এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে তার মরদেহ রাখা হবে।
স্ত্রী শাহানা খালেক জানান, অস্ট্রেলিয়ার থেকে ছোট ছেলে এবং কানাডা থেকে খালেকের বোন দেশে ফেরার পর দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
আবদুল খালেকের জন্ম ১৯৪৭ সালের ৭ এপ্রিল ভারতের ত্রিপুরায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ১৯৬৮ সালে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় সাব-এডিটর হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দৈনিক বাংলা এবং পরে দৈনিক জনকণ্ঠে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে পালন করেন। সর্বশেষ দৈনিক জনকণ্ঠের নগর সম্পাদক ছিলেন তিনি।
তিনি ভারতের হিন্দি দৈনিক রাজস্থান, ডেকান হেরাল্ড, দৈনিক মাতৃভুমি, আলোকপাত ও অস্ট্রেলিয়ার দি এইজ’ সংবাদপত্রের বাংলাদেশের সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছিলেন। ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নে সম্পৃক্ত আবদুল খালেক ১৯৬৯ এর গণ অভ্যূত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া আবদুল খালেক একাত্তরে প্রকাশিত জয়বাংলা পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ড এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ছিলেন।
আবদুল খালেকের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতিকুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জামালউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ডের সভাপতি শামসুদ্দিন পেয়ারা, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া।
