তবুও জীবিকার তাগিদে...

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৮:২৩
 
বাম পা হারিয়েছেন অনেক আগেই। ডান পায়ে চলাচল করা কঠিন। তবুও দু'বেলা দু'মুঠো অন্ন জোগাড় করতে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন আবুল হোসেন (৬৫)। জীবিকার তাগিদে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ছুটে চলেন তিনি। 'হ্যান্ডেল হাতে একপায়ে ভ্যানগাড়ি' চালান। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
 
১৬ বছর ধরে চলছে আবু বক্কারের 'আমরন এই জীবন সংগ্রাম'। একপায়ে ভ্যান চালিয়ে দিন শেষে যে আয় হয়, তাতে সংসার চলাই কঠিন। তার ওপর ওষুধ খেতে হয়। 
খোঁজ নিয়ে জানাগেল, আবু বক্কারের বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামে। সংসারে তার স্ত্রী রহিমা বেগম (৫০) রয়েছেন। স্বামীর পাশাপাশি তিনিও মাঠে কাজ করেন। বড় তিন ছেলে বিয়ে করে অনেক আগেই পৃথক সংসার করছেন।
 
আবু বক্কার ইত্তেফাককে বলেন, ৩৬ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি দূর্ঘটনায় তার বাম পা অকেজো হয়ে পড়ায় তা কেটে ফেলা হয়। ৩৬ বছর হলো পঙ্গুত্ব বরন করেছেন তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সমাজ সেবা অফিস থেকে তাকে কোন প্রতিবন্ধি কার্ড দেওয়া হয়নি। সরকারি-বেসরকারি কোন অনুদানও পাননি তিনি। এক পায়ে ভ্যান চালিয়ে দিনে আয় হয় ৮০ থেকে ১’শ  টাকা। যা দিয়ে কোন রকমে দিন পার করছেন।
 
আবু বক্কার জানান, প্রতিবেশিদের সহায়তায় ৫ হাজার টাকায় ভ্যানটি কিনে ছিলেন। এতোদিন একপায়ে ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। কিন্তু জীবিকার একমাত্র বাহন ভ্যান গাড়িটি আর আগের মতো চলেনা। তাছাড়া বিদ্যুৎ চালিত অটোভ্যানের প্রচলন বেশি হওয়ায় তার ভ্যানে যাত্রী ওঠেনা। ফলে আয় কমে যাওয়ায় অনাহারে অর্দাহারে দিন পাড় করতে হচ্ছে।
 
আবুলের স্ত্রী রহিমা বেগম ইত্তেফাককে বলেন, বাড়ির ভিটা ছাড়া তাদের কোন জমাজমি নেই। এক সময় তার স্বামীর শক্তি ছিল। যে কোন কাজ করতে পারতেন। কিন্তু পা হাড়ানোর পর থেকে তার পক্ষে জটিল কোন কাজ করা সম্ভব নয়। স্বামী পঙ্গু হওয়া সত্ত্বেও ভ্যানগাড়ি চালিয়ে কোন রকমে সংসার চলছিল। কিন্তু অটোভ্যান না হওয়ায় তার স্বামীর ভ্যানগাড়িতে যাত্রী ওঠতে চায়না। এখন বিদ্যুৎ চালিত অটোভ্যান তৈরি করতে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে। এতো টাকার যোগান দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। 
বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু ইউনুছ ইত্তেফাককে বলেন, আবু বক্কার দীর্ঘদিন ধরেই এক পায়ে ভ্যান চালান। পরিষদ থেকে সাধ্য অনুযায়ী তাকে সহযোগিতা করা হবে।