বাঘায় মাটির নিচে মাথার ১০ খুলি-দেহের হাড়গোর

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ২২:১৫
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় মাটির তলা থেকে উদ্ধার হয়েছে ১০ টি মাথার খুলি আর দেহের হাঁড়গোর। উদ্ধার হওয়া এসব খুলি ও হাড়গুলো সংরক্ষণ করে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
 
শনিবার ও আগের দিন শুক্রবার উপজেলা সদরের শাহদৌলা ডিগ্রি কলেজের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়ার সময় এসব মাথা ও হাড়গোর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া খুলি ও হাড়গুলো প্রাচীন আমলের বলে ধারণা করা হলেও মাটির নিচে প্রাচীন সদৃশ্য কোনো অবকাঠামো পাওয়া যায়নি।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজের দান করা জমিটি ছিল হজরত শাহদৌলার স্মৃতি বিজড়িত বাঘা ওয়াকফ এস্টেটের। হযরত আব্দুল ওয়াহাবের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্রের মধ্যে হযরত শাহ মোহম্মদ রফিক (রহ.) ১০২৮ হিজরী সনে সম্পত্তি ওয়াকফ করেন। পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ফেলে সম্প্রতি নতুনভাবে সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য মাটি খননের কাজ শুরু হয়।
 
ঐতিহাসিক তথ্য মতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে সুদূর বাগদাদ থেকে হযরত শাহদৌলা (রহ.) বাঘায় এসেছিলেন ইসলাম প্রচারের জন্য। এ সময় তার অনুসারী অনেক লোকও ধর্মপ্রচারের জন্য এখানে এসেছিলেন। উদ্ধার হওয়া মাথার খুলি ও হাঁড়গুলো সেই সময়ের।
 
অন্যদিকে ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে স্থানীয় অন্যান্য ইমারত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় কারো মৃত্যু হয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকসেনা অথবা রাজাকারদের মৃতদেহ হতে পারে।
কলেজের পার্শ্ববর্তী ৯০ বছর বয়সের বাসিন্দা আরজ আলী বলেন, ‘আমার জানা মতে জায়গাটিতে কবর স্থান ছিল না।’
 
শাহদৌলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন নবাব বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া মাথার খুলি ও হাড়গুলো হেফাজতে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনিয়ে কোনো আগ্রহ নেই।’