নীলফামারীর জলঢাকায় আসন্ন পৌর সভা নির্বাচনে আ.লীগের নৌকা প্রার্থীর বাধা আ.লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারিকেল গাছ। অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রতিবন্ধকতা জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থীর জগ। এ নিয়ে আগামীকাল বুধবার ভোটযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে।
জলঢাকায় ২৯ হাজার ৫ শত ৭৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ১৪ হাজার ৫ শত ২৭। এদিকে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান হাবিব।
১০ কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি কেন্দ্রকে ঝুকিপুর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে উপজেলা নির্বাচন কমিশনার। আইন শৃংখলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি আনসার, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে সাবেক উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর, আ.লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র ইলিয়াস হোসেন বাবলু, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) লাঙল প্রতীকে শাহ আব্দুল কাদের চৌধুরী বুলু, জামায়াত সমর্থীত জগ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে শরিফুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তবে ভোটের মাঠে ত্রিভূজ লড়াইয়ের সম্ভবনার কথা বলছেন স্থানীয় ভোটাররা। এক জরিপে দেখা গেছে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছে নৌকা, ধানের শীষ ও নারিকেল গাছ। তবে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোটাররা বলছেন নৌকার ব্যাপক সমর্থন থাকলেও এখানে নৌকা প্রার্থীর ভাগিনা বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন বাবলুর নারিকেল গাছ আ.লীগের ভোটে ভাগ বসাবে। এর মুল কারণ হিসাবে মনে করছেন আ.লীগে দলীয় কোন্দল ও বিভক্তি।
ইতিমধ্যে জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে পৌর আ.লীগ সভাপতি সম্পাদকসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ পুরোপুরি সমর্থন দিচ্ছেন বিদ্রোহী প্রাথীকে। তারা সরাসরি ওই প্রার্থীর প্রচারণা নেমেছেন। এদিকে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি, সম্পাদক নৌকা প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে। তবে মাঠ জরিপে বিদ্রোহী প্রার্থী আ.লীগের ভোট পাবেন বলে ধারণা করছেন এখানকার ভোটাররা।
এ ব্যাপারে উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল মনে করেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছে তাদের কারণে মুলস্রোতে কোন প্রভাব পরবে না। ভোটাররা বিভ্রান্ত না হয়ে নৌকা প্রতীককেই বেছে নেবে।
সভাপতি আনছার আলী মিন্টু বলেন, আমরা তাদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছি ৩০ তারিখের পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর বিভিন্ন নির্বাচনী পথসভায় এই সব নেতাদের বহিস্কারের দাবী জানিয়ে বলেন, নৌকার বিজয় কেউ রুখতে পারবে না।
অপরদিকে পৌরসভাটিতে নামমাত্র বিএনপির ভোট থাকলেও ব্যক্তিপ্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেটের ভোট রয়েছে। ৩, ৪, ৫ ওয়ার্ডে একক প্রাধান্য রয়েছে তার। সেখানকার ভোটাররা এটাকে আঞ্চলিকতার টান বলে মনে করছেন। ধানের শীষ প্রার্থী কমেট চৌধুরী বলেন, নিরপেক্ষ ভোট হলে ধানের শীষ জয়ী হবে।
এদিকে জামায়াত একচুলও ছাড় দিবে না এ নির্বাচনে এমনটি মনে করছেন জামায়াত সমর্থীত ভোটাররা। পৌরসভাটিতে জামায়াতের স্বতন্ত্র পৌর আমির প্রার্থী জগ প্রতীকের আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের বাড়ি বিএনপি প্রার্থীর এলাকায় হওয়ায় তার ভোটাররাও বলছে আঞ্চলিকতার টানে ভোটাররা আমাদেরকেই ভোট দিবে। সেই সঙ্গে জামায়াতের ব্যাংক ভোট তো আছেই।
জামায়াতের পৌর আমির আলহাজ্ব মকবুল হোসেন বলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এখানে ২০ দলীয় জোটের কোন প্রার্থী নাই। উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল গনি বলেন, বিএনপি প্রার্থী শুধুমাত্র বিএনপির, ২০ দলীয় জোটের নয়। তাই নির্বাচনের হিসাব নিকাশ কষতে পারছে না এখানকার সাধারণ ভোটাররা।
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামী ৫ বছরের জন্য কে হবেন পৌর পিতা এমন প্রশ্ন এখন সকলের।
