জানুয়ারি
হরতাল দিয়ে শুরু হয় ২০১৫ সালের প্রথম দিনটি। ১ জানুয়ারি জামায়াতের ৪৮ ঘণ্টা হরতাল আহ্বানের দ্বিতীয় দিন ছিল। ৫ জানুয়ারি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ৬ জানুয়ারি আটক হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৯ জানুয়ারি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন খালেদা জিয়া। ২৪ জানুয়ারি মারা যান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সাজা কার্যকর
২১ নভেম্বর দিনগত রাত ১২ টা ৫৫ মিনিটে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনালের আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়।
ব্লগার হত্যা
জঙ্গি হামলায় ২০১৫ সালে পাঁচজন ব্লগার খুন হন। ধারাবাহিক ব্লগার ও লেখকের হত্যার পর নিরাপত্তাহীনতার ইস্যুটি জোর আলোচনায় আসে। বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বিবৃতিও দেয় জঙ্গি সংগঠনগুলো।
নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য সূত্রে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনাসহ মোট তিন হাজার ৩৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮২৬ জন ও গণধর্ষণের শিকার ১৫৮ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৭১ জনকে।
সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা
২০১৫ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ও শারীরিক নির্যাতনে ৫৮ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। ৮৭ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। অপহরণের পর ফিরে আসতে পেরেছেন মাত্র ২৭ জন। বিএসএফর গুলি ও নির্যাতনে আহত হয়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক।
বিদেশি হত্যাকাণ্ড
ইটালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যা: ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান-২ নম্বরের গভর্নর হাউজের পাশের সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত তিনি। সিজার ঢাকায় নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আসিসিও-বিডি এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর ২৬ অক্টোবর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য জনসম্মুখে আসে। সন্দেহভাজন চার হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
জাপানি নাগরিক হত্যা: ৩ অক্টোবর রংপুরের আলুটারি গ্রামে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন তিনি। ঘটনার দিন বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোশি কুনিওর ব্যবসায়িক সহযোগী হুমায়ুন কবির হীরা ও রংপুর মহানগর বিএনপি নেতা রাশেদুন্নবী খান বিপ্লবকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। অবশেষে জেএমবির মাসুদ রানাকে গ্রেফতারের করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাকে এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
জাপানি নারীর রহস্যময় মৃত্যু ও দাফন: আগস্ট মাসে জাপানি নাগরিক হিরোয়ি মিয়াতোকে অপহরণ করে জাকির পাটোয়ারী রতন নামে তার ব্যবসায়িক পার্টনার। ১৯ নভেম্বর তাকে খুন করা হয়। পড়ে জাকিরকে ভারত থেকে আটক করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনে সিআইডি।
খ্রীস্টান ধর্ম-যাজক লুক সরকারকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা: ৫ অক্টোবর সকালে ঈশ্বরদীর ‘ফেইথ বাইবেল চার্চ অব গড’ এর ফাদার লুক সরকার নিজের ভাড়া বাড়িতে হামলার শিকার হন। তিন যুবক ধর্মের বাণী শোনার নাম করে বাসায় এসে মুখ চেপে ধরে তার গলায় ছুরি চালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তিনি একজনের হাতে কামড় দিয়ে চিত্কার করে উঠলে তার স্ত্রী পদ্মা সরকার ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখনো তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পাদ্রি পিয়েরোকে হত্যা চেষ্টা: দিনাজপুরের মির্জাপুরে ১৮ নভেম্বর সকালে ইতালীয় নাগরিক পিয়েরো পারোলারি সামিওকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার পর আহত অবস্থায় প্রথমে দিনাজপুরে এবং পরবর্তীতে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি আশংকামুক্ত।
রংপুরে ১০ খ্রীস্টান যাজককে হত্যার হুমকি: ২৬ নভেম্বর ১০ খ্রীস্টান যাজককে হত্যার চিঠিতে হুমকি দেয়া হয়। চিঠিটি বাংলাদেশ আঞ্চলিক ব্যাপ্টিস্ট চার্চ রংপুরের পালক প্রধান ফাদার রেভারেন্ড বার্নাবাস হেমর কাছে পাঠানো। ওই চিঠিতে তিনিসহ ১০ যাজককে হত্যার হুমকি প্রদান করা হয়ে।
তাইওয়ান দম্পতি উপর হামলা: ৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার উত্তরায় তাইওয়ান নাগরিক লিচি ক্লাই ও তার স্ত্রী লিলি হু এর বাসায় ঢুকে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তারা একটি ছোট কারখানা খুলে ব্যবসা করছেন। হামলার ঘটনায় পুলিশ জানায়, কারখানার শ্রমিকদের বেতন বাবদ ব্যাংক থেকে ছয় লাখ টাকা উত্তোলন করেন তারা। ওই টাকার জন্যই হামলাকারীরা বাসয় ঢুকে এবং হামলা চালায়। পুলিশ এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর নামে এক কর্মচারীকে আটক করে।
আইএস বিতর্ক
বছরটিতে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন আইএসের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন দেশ। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর বাতিল করে দেয়। এ ইস্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকার নারী ক্রিকেট দলের সফরও বাতিল হয়ে যায়। সরকারের তরফ থেকে আইএসের অস্তিত্ব নাই বলে বলা হয়। তবে জামায়াত ও বিএনপিকেএ ইস্যুতে নিরব থাকতেই দেখা গেছে।
শিশু রাজন ও রাকিব হত্যাকাণ্ড
রাজন হত্যা: সিলেটের জালালাবাদ থানার বাদেয়ালি গ্রামের আজিজুর রহমান ও মা লুবনা আক্তারের ১৩ বছর বয়সী ছেলে সামিউল আলম রাজন। সবজি বিক্রেতা শিশু রাজনকে গত ৮ জুলাই নগরীর কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। রায়ে আসামিদের মধ্যে কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেল আহমদের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। রাজনকে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিওধারণকারী নূর মিয়াকে যাবজ্জীবন সাজার রায় দেন আদালত।
রাকিব হত্যা: ৩ আগস্ট খুলনার দিনমজুরে আলমের ছেলে ১২ বছরের শিশু রাকিব হাওলাদারকে পেটে হাওয়া দিয়ে খুন করা হয়। শিশু রাকিব টুটপাড়া কবরখানা এলাকায় শরীফের মোটরসাইকেল ওয়ার্কশপ ‘শরীফ মটর্সে’কাজ করত। রাকিব মৃত্যুর কিছুদিন আগে ঐ গ্যারেজ ছেড়ে পিটিআই মোড়ে আরেকটি গ্যারেজে কাজ নিলে শরীফ মটর্সে মালিক মিন্টু মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে মলদ্বার দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে মামলার তিন আসামির মধ্যে শরীফ মটর্সের মালিক শরীফ ও মিন্টু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। আর শরীফের মা বিউটি বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।
দেশের ২৩৪ টি পৌরসভায় নির্বাচন
৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪ টি পৌরসভায় দলীয়ভাবে একযোগে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
