সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে হামলা: দোষীদের গ্রেফতার না করতে ওসিকে ১০ লাখ টাকা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৬, ২২:৪৮
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রেসক্লাবে ককটেল হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা নিতে গড়িমসির পর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই ঘটনায় কোনো মামলা না নেয়া ও দোষীদের আটকে বিরত থাকার শর্তে তিনি ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এমনকি আসামি গ্রেফতারের পরিবর্তে যোগসাজস করে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য সাংবাদিক নেতাদের প্রস্তাব দিচ্ছেন।
 
সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ ঘটনায় সাংবাদিকরা মামলা করতে চাইলেও থানার ওসি মামলা না নিয়ে প্রেসক্লাবকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাব দেন। এভাবে তিনদিন দেন দরবার চলার পর শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মামলা নিলেও একজন আসামিও গ্রেফতার করা হয়নি।
 
বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, রবিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রেসক্লাবে হামলা পরই হুকুমদাতাসহ তার অনুগামী সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে উপস্থিত হয়। এ ঘটনায় মামলা না নিতে, দোষীদের আটক না করতে এবং প্রেসক্লাবের ক্ষতিপূরণ বাবদ পুলিশকে ১০ লাখ টাকা দেয় তারা।
 
সীতাকুণ্ড থানার ওসি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসামি ধরতে জোর তৎপরতা চলছে বলে জানান।
 
উল্লেখ্য, রবিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মেয়র নায়েক শফির সংবাদ সম্মেলন চলাকালে স্থানীয় চিহ্নিত ডাকাত হত্যাসহ বহু মামলার আসামি দাউদ সম্রাট, মিরসরাইয়ের হারুন বাহিনীর প্রধান হারুনসহ ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী বন্ধুক, ককটেল, ইটপাটকেলসহ বিভিন্ন অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাদের এলোপাথাড়ি হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রেসক্লাবের দরজা-জানালাসহ স্থাপনা। সাংবাদিকরা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়ায় কোনরকম প্রাণে বাঁচলেও আহত হন অন্তত ১০ জন।