বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে উত্সবে দিন কাটাচ্ছে পর্যটকরা। সমুদ্র সৈকতে দিনব্যাপী নানা আয়োজন উপভোগ করে লাখো পর্যটক ছিল উত্সবে উচ্ছ্বসিত। সরকার ঘোষিত পর্যটন বর্ষ উপলক্ষে সৈকতের বালিয়াড়িতে আয়োজিত মেগা বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে চলছে এ উচ্ছ্বাস। ৩ দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্নিভাল গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় হট এয়ার বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়। সৈকতের বালিয়াড়িতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল নানা আয়োজন।
সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে শুরু করে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত এ আয়োজনে উচ্ছ্বসিত ছিল লক্ষাধিক পর্যটক ও অর্ধলক্ষাধিক স্থানীয় লোকজন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি প্রতিযোগিতা, ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচ, বালু ভাস্কর্য, সাইক্লিং, লায়ন ড্যান্স, মাইক্রো লাইট এয়ারক্রাফট, সেইলবোট, প্যারাসেইলিন, ফানুস উড়ানোসহ দৃষ্টিনন্দন আয়োজন ছিল উপভোগের মতো। সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বিচ কার্নিভাল মঞ্চে রাখাইন নৃত্য ছাড়াও ছিল সঙ্গীত অনুষ্ঠান ও কার্নিভালের অংশ হিসেবে সৈকতে কনসার্ট ও ঘুড়ি উত্সব উদ্যাপন করা হয় । সঙ্গীত অনুষ্ঠানে দেড় লক্ষাধিক মানুষকে মাতিয়ে তুলেছেন ফকির শাহাবউদ্দিন, শফি মণ্ডল, ভাইকিংস, চিরকুট, আঁখি আলমগীর ও এলআরবির আইয়ুব বাচ্চুর মতো শিল্পীরা। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট ও বর্ষবরণকে ঘিরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এখন পর্যটকসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকের আনাগোনায় কক্সবাজার এখন উত্সব-নগরী। জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, কার্নিভাল ও থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন লক্ষাধিক পর্যটক। কক্সবাজারের সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল এখন পর্যটকে ভরপুর। কক্সবাজারের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে আনাগোনা চলছে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পর্যটক আকর্ষণের জন্য ‘কার্নিভাল’-এর মতো আয়োজন থাকায় কক্সবাজার হয়ে উঠবে দেশের পর্যটন শিল্পের ব্র্যান্ড। পর্যটন বর্ষ-২০১৬ উদ্যাপনে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ নেয়া হবে কক্সবাজারে। যেটি ‘ইভেন্ট’ ভিত্তিক সারা বছরই আয়োজন করার পরিকল্পনা চলছে।
