এক বছরে ৩০ খুন খুলনায়

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৬, ০১:৫০
খুলনা মহানগরীর ৮ থানা এলাকায় বিদায়ী বছরে ৩০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। টুটপাড়ায় শিশু রাকিব, বুড়ো মৌলভীর দর্গা এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা মেয়ে ও বাবা, একই থানা এলাকায় যুবলীগ কর্মী ইমরান সজিব ও দৌলতপুরে ফিল্মি কায়দায় হোজি শহিদ হত্যাকাণ্ডটি ছিল বহুল আলোচিত। এর মধ্যে শুধু রাকিব হত্যারই বিচার হয়েছে।
 
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সূত্র জানায়, বিদায়ী বছরের জানুয়ারি মাসে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ২টি, খালিশপুর থানায় ১টি, এপ্রিলে হরিণটানা, খালিশপুর ও দৌলতপুর থানায় ১টি করে, মে মাসে খালিশপুর থানায় ১টি, দৌলতপুর থানায় ১টি, জুনে সোনাডাঙ্গা থানায় ১টি , লবণচরা থানায় ১টি, জুলাইতে খালিশপুর থানায় ১টি,  লবণচরা থানায় ১টি ও খুলনা সদর থানায় ২টি, আগস্টে  দৌলতপুর, খালিশপুর, লবণচরা ও খুলনা সদর থানায় ১টি করে, সেপ্টেম্বরে লবণচরা থানায় ২টি, দৌলতপুর, খালিশপুর, খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানায় ১টি করে, অক্টোবরে দৌলতপুর থানায় ১টি, নভেম্বরে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ২ ও লবণচরা থানায় ১টি এবং ডিসেম্বরে খুলনা সদর ও হরিণটানা থানায় ১টি করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে নগরীতে কোনো খুনের ঘটনা ঘটেনি।
 
বছরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম গত ৩ আগস্ট নগরীর টুটপাড়া কবরখানার পাশে শিশু রাকিব হত্যাকাণ্ড। কম্প্রেসার মেশিনের পাইপের মাধ্যমে পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে পৈশাচিকভাবে শিশু রাকিবকে হত্যা করে স্থানীয় শরীফ মোটর্সের মালিক ওমর শরীফ ও তার সহযোগী কথিত চাচা মিন্টু খান। এ ঘটনায় ৪ আগস্ট খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা হয়। ৫ অক্টোবর আদালতে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। চার্জ গঠনের ৩৪ দিনের মাথায় ৮ নভেম্বর রায় ঘোষণা করে আদালত। রায়ে ওমর শরীফ ও মিন্টু খানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।
 
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে নগরীর বুড়ো মৌলভীর দর্গা এলাকার ৩ নম্বর গলির ঢাকাইয়া হাউজ এ.পি ভিলা বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা (২৮) ও তার বাবা ইলিয়াসের (৭৫) ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।
 
গত ১৯ জুন বেলা ১১টায় নগরীর গল্লামারী মোহাম্মদনগর এলাকায় মো. ইমরান সজিব আকন (২৮) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় সজিবের বাম হাত কেটে নিয়ে উল্লাস করে সন্ত্রাসীরা। গত ২৯ অক্টোবর নগরীর দৌলতপুরে শহিদুল ইসলাম শহিদ ওরফে হোজি শহিদকে ফিল্মি কায়দায় গুলি করে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ গত ২৯ ডিসেম্বর হরিণটানা থানার খালাশীর মোড় এলাকায় সালমা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এগুলো ছাড়াও অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হলেও সেগুলো এখনো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।