প্রত্নতাত্ত্বিক মাঠকর্মের দুইদিন

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ১৯:০৪

  জান্নাতুল ফেরদৌস

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঠকর্ম গবেষণার জন্য বিষয় নির্বাচন করা হয় প্রত্নস্থল জাদুঘরের স্থাপত্যিক কাঠামো, প্রত্নতত্ত্বে প্রত্নস্থল জাদুঘর ও প্রত্নস্থলের গুরুত্ব। নির্ধারিত স্থান কুমিল্লার ময়নামতি প্রত্নস্থল জাদুঘর এবং তত্সংলগ্ন প্রত্নস্থল। মাঠকর্ম গবেষণার পরিধি  ছিল দুইদিন। একাডেমিক মাঠকর্ম এটিই প্রথম। তাই উত্সাহ-উদ্দীপনাও একটু বেশি। তীব্র রোদও আগ্রহের ঘাটতি করতে পারেনি।

পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রথমদিন সকাল ৯টায় প্রত্যেকেই ময়নামতি জাদুঘরে হাজির। জাদুঘরে প্রবেশের পূর্বে মাঠকর্মের তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক মোঃ সাদেকুজ্জামান মাঠকর্মের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান হাফিজুর রহমান জাদুঘর সম্পর্কে ধারণা দেন। ৪১ জন শিক্ষার্থীর ছয়টি দল এরপর প্রবেশ করে জাদুঘরে। সেখানে জাদুঘরের স্থাপত্য, প্রদর্শনী ব্যবস্থা, প্রদর্শিত নিদর্শন, ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করি এবং আলোকচিত্র নেই।

মাঠকর্মের ২য় দিন প্রবেশ করি শালবন বিহারে। ৭ম-৮ম শতকে নির্মিত এ বিহারটি ছিল একাধারে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়, উপাসনালয়, ধর্মচর্চা ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। শালবন বিহারে খননকৃত কূপের মাটি থেকে ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রত্ন নিদর্শন আলাদা করা হয়।

মাঠকর্মের দ্বিতীয় দিন ২টায় আমরা ইটাখোলা মন্দিরে তথ্য             সংগ্রহে যাই। ইটাখোলা মুড়া পাহাড়ের গায়ে তিনটি স্তরে ৩৪ কি.মি     দৈর্ঘ্য জুড়ে বিদ্যমান এটি। সেখান থেকে দলবলে যাই রুপবান বিহারে। ক্রুশাকৃতির নির্মাণ কাঠামোয় নির্মিত বিহারে পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ শেষে চলে বন্ধুদের ফটোসেশন। বিকাল ঘনিয়ে এলে শেষ হয় দুইদিনের মাঠকর্ম।