মাহবুব শরীফ
যারা ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন, তারা তো বটেই; প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারও একইসাথে উপকৃত হয়। ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের যথেষ্ট সুযোগ থাকে। ফলে স্থায়ীভাবে রিক্রুটমেন্টের সময় যারা ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে অংশ নেয়, তাদের মধ্য থেকে যারা চাকরির সুযোগ পায় তারা সত্যিকার অর্থে কোম্পানির ভালো-মন্দ সম্পর্কে নতুনদের থেকে অনেক বেশি বুঝে। যারা পুরোপুরি রিক্রুটমেন্ট প্রসেসের মাধ্যমে চাকরি পায়, তাদের থেকে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের শিক্ষানবিশরা অনেক বেশি এগিয়ে থাকে কাজে-কর্মে এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন পালনের দিক থেকে। কারণ স্বল্প সময়ের জন্য হলেও ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের ইন্টার্নরা প্রতিষ্ঠানের কার্যপরিধি, পলিসি, সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা পেয়ে থাকে।
একজন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের সময় যে বিষয়গুলো মেজর হিসেবে অধ্যায়ন করেছে, তার প্র্যাকটিক্যাল প্রতিফলন হয় ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে। সুতরাং ভালের কোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে ভালো একটি চাকরি আশা করতেই পারে। একটি ডিসেন্ট ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জের। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন যথাযথ সাপোর্ট এবং রিসোর্স শেয়ারিং। আর একটা কথা না বললেই নয়, যখন শিক্ষানবিশরা কোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পায় তাদেরকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা সবারই কর্তব্য।
ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের করণীয়
ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি বিষয়ে মনোনিবেশ করতে হয়। আর এ ব্যাপারগুলো ভালোভাবে রপ্ত করতে পারলে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামকে সফল বলা হয়।
উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে
কিছু কিছু ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম আছে যেগুলো আসলেই স্ট্রাকচারড। সুতরাং ইন্টার্নশিপ শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের উচিত্ কোন এরিয়াতে সে দক্ষতা অর্জন করতে চায়, নতুন কী আয়ত্ত করতে চায় বা কীভাবে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চায় তা নির্ধারণ করে ফেলা। তবে মনে রাখতে হবে, এমন কিছু আশা করা উচিত নয় যা অর্জন করা সম্ভব নয়।
সুপারভাইজারের সাথে মিটিং
ইন্টার্নশিপের সময় নির্দিষ্ট কোনো একজনের অধীনে বা তত্ত্বাবধানে ইন্টার্নশিপ করতে হয়। সেই তত্ত্বাবধায়ক বা সুপারভাইজারের সাথে সদ্ভাব রাখতে হবে। যেকোনো আইডিয়া শেয়ারিংয়ে সুপারভাইজারের সাথে আলোচনা করা উচিত। এতে করে শিক্ষানবিশ এবং সুপারভাইজারের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয় এবং অনেক বেশি শেখা যায়।
কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হোন
সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই শিক্ষানবিশদের ইন্টার্নশিপের জন্য কিছু না কিছু ব্যয় করে থাকে। সুতরাং তারা শিক্ষানবিশদের দিয়ে কিছু বাড়তি কাজ করিয়ে নিয়ে থাকে। এগুলো সুকৌশলে পালন করা শিক্ষানবিশদের কর্তব্য। এতে বিরক্ত না হয়ে কাজগুলো শেখার মানসিকতা নিয়েই ইতিবাচকভাবে করা প্রয়োজন।
নেতিবাচক মনোভাব পরিহার করুন
একজন ইন্টার্নের জন্য নেতিবাচক মনোভাব তার সমস্ত কর্মতত্পরতাকে বানচাল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং অভিযোগ, রূঢ় আচরণ, সহযোগীদের সাথে অশ্রদ্ধাশীল ব্যবহার, দেরি করে অফিসে আসা, তাড়াতাড়ি অফিস ত্যাগ করা, ডেটলাইন মিস, অফিস পলিসি না মানা এগুলো নিজের জন্যই ক্ষতিকর বলেই স্বীকৃত।
জানতে আগ্রহী হোন
কোম্পানির প্রতিটি মিটিং, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্স, ইভেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ করা উচিত। এতে করে প্রতিষ্ঠানের খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে ভালো করে জানা যায়। মিটিং অনেক সময়ে শিক্ষানবিশের জন্য বোরিং লাগতে পারে। তবু এসব মিটিং তার জন্য আশির্বাদই হয়ে উঠবে।
নিজেকে হাইলাইট করুন
প্রতিটি ইন্টার্নশিপ মূলত একটি নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট, সুপারভাইজার ও শিক্ষানবিশদের চক্রে আবদ্ধ থাকে। এগুলোর বাইরে নিজেকে কোম্পানির মিটিং, অন্য ডিপার্টমেন্টের কর্মীদের সাথে যোগাযোগ এবং কোম্পানির সোস্যাল ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। নিজের আইডিয়া যত বেশি অন্যান্যদের সাথে শেয়ার করা যায় ততবেশি শেখা যায়।
প্রশ্ন করুন নিঃসংকোচে
সব সময় মনে রাখতে হবে ইন্টার্নশিপ হলো একটা লার্নিং প্রসেস। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বা কোনো উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা যে ধরনের কাজ আপনার কাছ থেকে আশা করছে সে বিষয়ে আপনার কোনো ধারণা না থাকলে পরিস্কার করে বুঝে নিতে হবে কাজটি। আর তার জন্য প্রশ্ন করতে সংকোচ বোধ করবেন না।
উদ্যোগ নিতে হবে
কোম্পানির কর্তৃপক্ষ সেই সব কর্মীদের পছন্দ করে যারা যেকোনো অবস্থায় কার্যকরী উদ্যোগ নিতে পারে। সুতরাং আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি কোম্পানির জন্য কিছু করতে পারেন। শুধুমাত্র কাজের মাধ্যমে আপনি যেকোনো কোম্পানির আস্থাভাজন হতে পারবেন না। বাড়তি উদ্যোগও নিতে হবে আপনাকে।
মেন্টর খুঁজে বের করুন
মেন্টর হলো এমন একজন ব্যক্তি যিনি তার অধীনস্ত কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকবেন সবসময়। মেন্টর বুঝবেন কর্মীদের চাহিদা এবং সে অনুযায়ী দিক নির্দেশনা দেবেন সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করার। অফিস পলিটিক্স হতে আপনাকে মুক্ত রাখতে মেন্টর কাজ করবে। সুতরাং আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আসল মেন্টর। ইন্টার্নশিপের জন্য সুপারভাইজার মেন্টর হতে পারে।
নেটওয়ার্কের বিকল্প নেই
জব হান্টিংয়ের জন্য সবচেয়ে বড় টুল হলো নেটওয়ার্ক। যার নেটওয়ার্ক যত বেশি বড় তার চাকরিও মেলেও তত দ্রুত। তাই ইন্টার্নশিপের সময় সুপারভাইজারসহ সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলুন।
শিখুন এবং উপভোগ করুন
ইন্টার্নশিপে আপনাকে শিখতে হবে। এখানকার অভিজ্ঞতা আপনার চাকরির জন্য বাড়তি সুবিধা প্রদান করবে, সে কথা না বললেও চলবে। তবে শেখার সাথে সাথে ইন্টার্নশিপের সময়টা উপভোগ করার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শিখন প্রক্রিয়া সহজতর হয়ে উঠবে। মনে রাখবেন এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
