পার্বত্য বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু বনভন্তের ৯৭ তম জন্মদিন পালন

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৬, ১৯:৪৯
পার্বত্য বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় গুরু প্রয়াত বনভন্তের ৯৭ তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। প্রসঙ্গত,  বনভন্তে ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি দেহত্যাগ করেন। তার মরদেহ বতর্মানে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
 
শুক্রবার সকালে বুদ্ধপতাকা উত্তোলনের পর বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে তার ৯৭তম শুভ জন্মদিন উদযাপন করেন রাজবন বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।
জন্মদিনের এ উৎসবে যোগ দিতে হাজারো পূর্ণার্থীর ঢল নেমেছে রাজবন বিহারে। এলাকায় বসেছে বিশাল মেলা।
 
উল্লেখ্য, বনভন্তে ১৯২০ সালের ৮ জানুয়ারি কাপ্তাই মগবান মৌজায় জলম্গ্ন মুরোঘোনা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার সহধর্মিনী ছিলেন রথীন্দ্র চাকমা। পিতার নাম হারুমোহন চাকমা, মাতা বীরপদি চাকমা। ১৯৪৯ সালের ফাল্গুনী পূর্ণিমায় বনভন্তে চট্টগ্রামের নন্দকানন বৌদ্ধ বিহারে প্রয়াত দীপংকর মহাস্থবিরের নিকট প্রবজ্যা গ্রহণ করেন। প্রবজ্যা গ্রহণের পর ধ্যান-সাধনার জন্য তিনি রাঙ্গামাটি সদরের ধনপাতার গভীর বনে অবস্থান করেন। সাধনার বেশিরভাগ সময় বনে অতিবাহিত করার কারণে তিনি বন শ্রমণ হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাধের কারণে ধনপাতা গ্রামটি জলমগ্ন হওয়াতে বনভন্তে খাগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা উপজেলায় চলে যান। ১৯৬১ সালের ২৭ জুন দিঘিনালার বেয়ালখালী রাজ বৌদ্ধ বিহারে জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের নিকট তিনি উপসম্পদা গ্রহণ করেন। এই উপজেলায় গভীর বনে ধ্যান-সাধনারত অবস্থায় তিনি ‘বনভন্তে’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার তিনটিলায় গমন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনটিলা বনবিহারে বনভন্তের নির্দেশে বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে কঠিন চীবরদান শুরু হয়। এই নিয়মে ১৯৭৪ সালে চাকমা রাজার রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন করতে বনভন্তে শিষ্যদের নিয়ে রাঙ্গামাটি আসেন।
১৯৭৭ সালে শিষ্যদের নিয়ে তিনি রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে আগমন করেন। ১৯৮১ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজবন বিহারে তাকে মহাস্থবির (উপসম্পদার ২০বছর পূর্তি) হিসেবে বরণ করা হয়। তিন পার্বত্য (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি) জেলায় তার বহুসংখ্যক শিষ্য বুদ্ধ এবং বনভন্তের বাণী প্রচার করেছেন।