সরকারি চড়-৪০০০ টাকা-৮ চাঁদর-সাদা কাগজে স্বাক্ষরে থানা থেকে মুক্তি

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১৮:২৯
থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে ভ্যান থেকে নামিয়েই গালে কষে মারলেন এক চড়। এরপর ধরে নিয়ে যাওয়া হলো থানা হাজতে। সেখানে নিলেন নগদ চার হাজার টাকা। তারপর ছেড়ে দেয়া হলো,  তবে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে রেখে দেয়া হলো আট পিস চাঁদর। চড় খেয়ে বাড়িতে গিয়ে আসল জ্বর। দুইদিন ভোগলাম জ্বরে।
 
বাঘা থানা পুলিশের এক উপ পরিদর্শকের এহেন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ভুক্তভোগী মতলেব মন্ডল। তার বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার অমৃত পাড়া গ্রামে।
 
তিনি জানান,  ৬ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক চারটায় মতলেব মন্ডল উপজেলার ছাতারি গ্রামে জামাই বাড়িতে যান। জামাইয়ের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই মেয়ে চলে যায় তার বাড়িতে। যে কারণে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এ সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় সাইফুল নামের এক যুবক তাকে থামিয়ে মোবাইল ফোনে পুলিশে খবর দিয়ে তার ভ্যানে উঠে বসে। উপজেলা গেটের সামনে পৌঁছা মাত্র বাঘা থানার উপরিদর্শক আব্দুল গাফফার ভ্যান থেকে নামিয়েই গালে জোরে একটি থাপ্পর কষে থানায় নিয়ে যান তাকে। পরে জামাই থানায় গিয়ে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তার কাছ থেকে নগদ চার হাজার টাকা ও সাদা কাগজে একটি স্বাক্ষর নিয়ে শ্বশুর মতলেবকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু রেখে দেয়া হয় আট পিস চাঁদর।
 
মতলেব মন্ডলের জামাই আমানত বলেন, ‘তার সন্তানোর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত মাসের ৩০ ডিসেম্বর বৈধ ভিসায় তিনি ভারতে যান। এরপর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি তিনি দেশে ফেরেন। এ সময় তার মেয়ে ও স্বজনদের জন্য ওই চাঁদরগুলো নিয়ে এসেছিলেন তিনি।’
 
উপ-পরিদর্শক আব্দুল গাফফারের দাবি,  চাঁদরগুলো ঘটনার তিনদিন পর ফেরত দেয়া হয়েছে। টাকা নেয়ার অভিযোগ সত্য নয়।
 
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহমুদ বলেন, ‘টাকার দেয়া-নেয়ার বিষয়টি সত্য নয়।’