রফিকুর রহমান
চাকরিজীবী বাবা-মায়ের সন্তান শুভ্র পড়ছে রাজধানীর একটি কলেজে। ছোটবেলা থেকেই দাদার প্রশ্রয়ে নাতি বড় হচ্ছে, নাতিকে ঠিক ১ম শ্রেণি থেকে স্কুলে আনা-নেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে বরাবরই নির্ভার রেখেছিলেন ছেলে-বৌমাকে।
কলেজে অবশ্য শুভ্র একাই যায়। নাস্তার টেবিলে শুভ্রর সঙ্গী এখনো দাদা-দাদি। সকালে নাস্তা সেরে শুভ্র চলল কলেজের পথে আর তখনই দাদা জিজ্ঞেস করলেন, দাদাভাই, তোমাদের এবার নতুন একটা সাবজেক্ট আছে না? আইসিটি? কবে থেকে শুরু ক্লাস? শুভ্র জানালো আজ থেকে। যদিও আইসিটি সাবজেক্টে কি পড়ানো হবে তা জানা নেই শুভ্রর।
কলেজে একবারে শেষ ক্লাসটিতে আসলেন একজন তরুণ, চোখে চশমা। এসেই বললেন, তোমাদের সঙ্গে আমার আগে দেখা হয়ে উঠেনি, আমি তোমাদের তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক।
শুভ্র ক্লাসে মনোযোগী হতেই স্যার বললেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সরকার এ বিষয়টি নতুন যুক্ত করায় এটার ওপর একটা ট্রেনিং নিতে আমি দেড় মাস ছিলাম না। তাই তোমাদের সঙ্গে দেখা হতে দেরি হলো। তোমাদের সবার প্রথম কাজ হলো বাসায় গিয়ে একটি মেইল এড্রেস খোলা। তারপর আমার মেইল এড্রেসে তোমাদের সবার Aim In Life কি সেটা পাঠানো।
ছুটি শেষে বাসায় বাবা আসলে শুভ্র বিষয়টি জানায় বাবাকে। বাবা পিসিতে শুভ্রকে ধরে ধরে বুঝিয়ে দিলেন মেইল এড্রেস কি, কি ধরনের কথা হয় সেখানে। গুগল-ই বা কি? তথ্য সব কিভাবে খুঁজে পেতে হয়। স্যারকেও মেইল পাঠাল শুভ্র।
পরেরদিন ক্লাসে এসে স্যার সবার মেইল নিয়ে আলোচনা করে বললেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশ কত এগিয়ে গেছে এটা আজ জানাব। আলোচনা শেষে তিনি দেখালেন প্রত্যেকটা খাতে অভাবনীয় ভাবে দেশের এগিয়ে যাবার কথাও।
আইসিটি স্যারের কথাবার্তায় মুগ্ধ হলো ক্লাসের সবাই। কিন্তু সবাই ভাবল আইসিটির এই জিনিসগুলো কিভাবে হচ্ছে সেটা হাতে ধরে, ছুঁয়ে, কাছ থেকে পরখ করে দেখা গেলে কত ভালোই না হতো!
স্যার ঠিক পরেরদিনই ক্লাসে এসে বললেন, আগামী ১৯-২১ মার্চ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯। এর মধ্যে একটি জোন আছে, নাম এক্সিপেরিয়েন্স জোন। এখানে অগমেন্টেন্ড রিয়ালিটি, ভার্চুয়াল রিয়ালিটির অনেক পণ্য রয়েছে। যা ছুঁয়ে দেখে পরখ করে বোঝা যাবে। মাথায় হেডসেট পরে ভিডিও দেখার ছবি-ভিডিও দেখার কথাতো তোমরা জানোই। এগুলো আসলে অগমেন্টেন্ড রিয়ালিটি, ভার্চুয়াল রিয়ালিটির বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী।
এছাড়াও অত্যাধুনিক উচ্চগতির ফাইভ-জি ইন্টারনেটে এক্সিপেরিয়েন্স জোনও থাকবে এখানে। আমরা পুরো ক্লাসের সবাই মিলে যাব সেখানে। এখানে গেলে আমরা দেখতে পারব পুরো দেশের সবশেষ প্রযুক্তি, আছে পরখ করে দেখার, শেখার অনেক কিছু। সবাই তোমরা ১৯ তারিখ সকাল দশটায় স্কুলের সামনে আসবে, আমরা প্রিন্সিপাল স্যারের নেতৃত্বে ঘুরে আসব। শুধু তোমাদের ক্লাসের জন্য দিনটি ছুটি দিয়েছেন প্রিন্সিপাল স্যার।
বাসায় গিয়ে শুভ্র দাদা, বাবা-মাকে জানায় সব! উত্তেজনায় সে খুব খুশি, বাবা তো রীতিমতো তার স্যারকে ফোন করে বললেন, আপনি দারুণ একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। স্যার বললেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে আপনিও ঘুরে আসুন। ওয়েবসাইটে দেখুন বিস্তারিত: www.softexpo.com.bd
