রাজশাহীতে বেতন নির্ধারণী ফরম পূরণে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৬, ১৯:৫২
রাজশাহী বোয়ালিয়া থানা এলাকার প্রাথমিক শিক্ষকদের নতুন পেস্কেলের জন্য বেতন নির্ধারণী ফরম পূরণের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
 
প্রায় সাড়ে তিন শ শিক্ষকের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা সংশ্লিষ্টরা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
এসব টাকা হাতিয়ে নিতে নগরীর ঘোড়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে জেলা ও থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তাকে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে ।
 
ভূক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, প্রজ্ঞাপনের ঘোষণা অনুযায়ী জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে নতুন পেস্কেলে বেতন দিতে বলা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এ জন্য মোতাবেক বেতন নির্ধারণী ফরম পুরণের জন্য শিক্ষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও অফিস খরচ বাবদ তিন শ টাকা তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা কর্মকর্তা। নতুন পেস্কেলে বেতনের ফরম পূরণের কথা বলে টাকা তুললেও আগের বেতন কাঠামোতেই বেতন হবে বলে শিক্ষকরা জানতে পারেন। এনিয়ে শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
 
কাশিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদুন্নবী কামরান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪০ শিক্ষকদের কাছ থেকে বেতন নির্ধারণী ফরম পূরণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নামে তিন শ টাকা আদায় করেছেন শিক্ষক আইয়ুব আলী। বেশির ভাই শিক্ষকই টাকা দিয়েছেন, তবে আমি এখনো টাকা দেইনি। আমাকেও কিছু টাকা দেয়া লাগতে পারে।’
 
তবে নগরীর বোয়ালিয়া থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাখি চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার এখানে শিক্ষকরা আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।’ এরপর তিনি ফোনটি শিক্ষক আইয়ুব আলীকে ধরিয়ে দেন। তবে শিক্ষক আইয়ুব আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটি আসলে তেমন কিছুই না। এজি অফিসের জন্যে যে টাকা লাগে, তাই তোলা হয়েছে। এই আর কি?’
 
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, ‘নতুন পেস্কেলে বেতন দিতে বেতন নির্ধারণী ফরম পূরণে কোনো অর্থ আদায়ের নিয়ম নেই। এধরণের অর্থ আদায়ের প্রশ্নই ওঠে না। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’