মানসিকতার উন্নতি চান রিয়াদ

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ২১:১৭

স্পোর্টস রিপোর্টার

নিউজিল্যান্ডের পরিবেশে নিজেদের খাপ খাইয়ে বাংলাদেশ দল টেস্টে বড় কিছু করে ফেলবে, এমন প্রত্যাশাও ছিল না। তবে এভাবে তাসের ঘরের মতো ইনিংস ভেঙে পড়বে, সেটাও ছিল অভাবনীয়। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও তাই এই অভাবনীয় ব্যর্থতার উত্তর খুঁজছেন।

ওয়েলিংটনে ইনিংস ও ১২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের পর তিনি দাবী করলেন ১৭-১৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ক্রিকেটারদের মানসিকতার যতটা উন্নতি হয়েছে সেটা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ‘১৭ বছরে আমাদের ক্রিকেটারদের মানসিকতা ও স্কিলের অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে এই ধরনের কন্ডিশনে আরো ভালো করতে হলে মানসিকভাবে আরেকটু শক্ত হতে হবে। এছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’

এক টেস্ট হাতে রেখেই সিরিজ জিতে গেল নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ দলের তাই আক্ষেপের শেষ নেই। রিয়াদ বলেন, ‘অবশ্যই আমরা খুবই হতাশ। আরো অনেক ভালো করা উচিত ছিল। আমরা এর চেয়ে ভালো দল। জানা ছিল, এই উইকেটে বোলারদের জন্য সহায়তা থাকবে। আমাদের উচিত ছিল আরো বেশি নিবেদন দেখানো। সামনের ম্যাচে এসবের সঙ্গে যতটা বেশি সম্ভব মানিয়ে নিতে হবে আমাদের।’

রিয়াদ মনে করছেন বেশি চাপ নেওয়ার কারণেই এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ‘প্রথম টেস্টে খেলা শুরুর আগেই আমি বলেছিলাম, আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। ম্যাচের আগেই যদি ভাবতে থাকেন যে সুইং হবে, সিম হবে, বাউন্স হবে, আউট হয়ে যেতে পারি, তাহলে ওখানেই আপনি হেরে যাবেন। ইতিবাচক থাকলে অন্তত ভালো পারফর্ম করার সুযোগ বেশি থাকে।’

বলা যায়, টেস্ট সিরিজটা নিউজিল্যান্ডের পেস বোলারদের বিপক্ষেই হেরেছে বাংলাদেশ দল। তবে রিয়াদ অবশ্য সফরকারী ব্যাটসম্যানদের দায়টাই বেশি দিলেন। তিনি মনে করেন, ভালো শুরুটা ধরে রাখতে পারা দরকার ছিল। বললেন, ‘তামিম ও সাদমান আমাদের খুব ভালো শুরু এনে দিয়েছিল। এরপর ওয়াগনার যখন তার শর্ট বল থিওরি প্রয়োগ করতে শুরু করল, কিছুক্ষণ ভালো খেলার পর আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছি। আরেকটু লম্বা সময় গাটস নিয়ে খেলা উচিত ছিল। আমাদের পেস আক্রমণে তিনজন নতুন বোলার। ওদেরকে দায় দিয়ে লাভ নেই। দোষ ব্যাটসম্যানদেরই বেশি। আড়াই দিনে দুইবার অলআউট হওয়া খুবই হতাশার।’

রিয়াদ মনে করছেন সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে এই সিরিজের ফলাফলটা ভিন্ন হতে পারতো। তিনি বলেন, ‘আমার বার্তা ছিল ইতিবাচক থাকার, একই বার্তা সামনেও থাকবে। হয়তো শুনতে হাস্যকর শোনাবে, কিন্তু আমাদের যে দল আছে, তাতে আমরা আরো ভালো করার সামর্থ্য রাখি। স্রেফ আমাদের ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করতে হবে যে নিজের স্কিল দিয়ে কিভাবে দলে অবদান রাখতে পারি।”

আগামী ১৬ মার্চ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ক্রাইস্টচার্চে। সেই টেস্টের আগে ব্যাটসম্যানদের আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে বললেন অধিনায়ক। তিনি মনে করছে আগের দুই টেস্টের ভুলগুলো শুধরে ফেলার কোনো বিকল্প রাস্তা খোলা নেই দলটির সামনে।

রিয়াদ বলেন, ‘দ্বিধা থেকে আমরা ভুল করছি। সংশয় নিয়ে শট খেলছি, পুরো আস্থা রাখছি না নিজের ওপর। মারব নাকি মারব না, এই ধরনের উইকেটে এই ভাবনা চলবে না। শট খেলতে চাইলে দ্বিধাহীনভাবে খেলতে হবে, ঠেকাতে চাইলে সেটিও। উপায় বের করতেই হবে। কারণ পরের টেস্টেও তারা বাউন্সার করবে। ক্রাইস্টচার্চে উইকেট গতিময়। ব্যাটসম্যানদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।’

স্কোর কার্ড :

ভেন্যু: বেসিন রিজার্ভ, ওয়েলিংটন

টস: নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস :

২১১/১০, ৬১ ওভার (তামিম ৭৪, লিটন ৩৩, ওয়াগনার ৪/২৮)।

নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস :

৪৩২/৬ ডিক্লেয়ার (টেলর ২০০, নিকোলস ১০৭, উইলিয়ামস ৮৪; আবু জায়েদ ৩/৯৪, তাইজুল ৯৯/২)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : (চতুর্থ দিন শেষে ৮০/৩, ২৩ ওভার)

ব্যাটসম্যান                                                                                                  রান           বল            চার           ছক্কা

তামিম ইকবাল বোল্ড ব বোল্ট                       ৪       ২       ১      ০

সাদমান ইসলাম ক ওয়াটলিং ব হেনরি             ২৯     ৪৪    ৪      ০

মুমিনুল হক ক সাউদি ব বোল্ট                       ১০     ১৯     ২      ০

মোহাম্মদ মিথুন ক সাউদি ব ওয়াগনার             ৪৭    ১০৫  ৭      ০

সৌম্য সরকার ক টেইলর ব বোল্ট                  ২৮     ৫৭    ৫      ০

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ক বোল্ট ব ওয়াগনার        ৬৭     ৬৯     ১২    ১

লিটন দাস ক বোল্ট ব ওয়াগনার                    ১       ৭      ০      ০

তাইজুল ইসলাম ক লাথাম ব ওয়াগনার            ০       ৬       ০      ০

মুস্তাফিজুর রহমান বোল্ড ব বোল্ট                   ১৬     ২২     ০      ২

আবু জায়েদ অপরাজিত                               ০       ৩      ০      ০

এবাদত হোসেন বোল্ড ব ওয়াগনার                 ০       ২       ০      ০

অতিরিক্ত (লে বা-৪, ও-৩)                          ৭      

মোট  (অলআউট, ৫৬ ওভার)                        ২০৯

উইকেট পতন :১/৪ (তামিম), ২/২০ (মুমিনুল), ৩/৫৫ (সাদমান), ৪/১১২ (সৌম্য), ৫/১৫২ (মিথুন), ৬/১৫৮ (লিটন), ৭/১৭০ (তাইজুল), ৮/২০৩ (মুস্তাফিজ), ৯/২০৯ (মাহমুদুল্লাহ), ১০/২০৯ (এবাদত)।

নিউজিল্যান্ড বোলিং : বোল্ট : ১৬-৫-৫২-৪, সাউদি : ১২-১-৫৭-০ (ও-১), হেনরি : ৯-৩-৪০-১ (ও-১), গ্র্যান্ডহোম : ৫-০-১১-০ (ও-১),ওয়াগনার : ১৪-৪-৪৫-৫।

ফল : নিউজিল্যান্ড ইনিংস ও ১২ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : রস টেলর (নিউজিল্যান্ড)।

সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড।