অসহনীয় যানজটে নাকাল নগরবাসীকে যানজট থেকে মুক্তি দিতে নিজেই মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।
মঙ্গলবার দিনভর নিজ দলের নেতা-কর্মী ও বিএনসিসি সদস্যদের নিয়ে নিজেই রাস্তায় নেমে শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাদক, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুতা, ইভটিজিং ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে নিজেই বিলি করেছেন কয়েক হাজার লিফলেট ও সাটিয়েছেন পোস্টার। নগরীকে যানজটমুক্ত রাখতে আগামী তিনদিন এই ক্যাম্পেইনিং চলবে বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রভাবশালী এই সংসদ সদস্যকে রাস্তায় নেমে যানজট মুক্ত করতে দেখে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। মঙ্গলবার দিনভর এনিয়ে ছিল আলোচনার ঝড়।
অনেককেই বলতে শোনা গেছে, ‘কাজটির দ্বায়িত্ব ছিল সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের। কিন্তু ইচ্ছা থাকলে যেকোনো কাজ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন করা যায় তা শামীম ওসমান চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।’ আবার কেউ কেউ বলেন, ‘শামীম ওসমানের এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য তাকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত।’
নগরবাসীর অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট নিরসনে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার দলের নেতাকর্মী ও সরকারি তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজের বিএনসিসি সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় নামেন শামীম ওসমান। মোট চারটি দল শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। শহরের ব্যস্ততম চাষাড়া এলাকায় নিজেই অবস্থান নেন শামীম ওসমান। এ সময় তিনি নিজেই চাষাড়া গোলচত্বর এলাকার আশপাশে যানবাহন ও রিকশা চালকদের দিক নির্দেশনা দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি মাইকে যান বাহনের চালক ও যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিতে থাকেন। হঠাৎ মাইকে শামীম ওসমানের এমন বক্তব্যে হতচকিত হয়ে যান অনেক গাড়ি চালক থেকে শুরু করে পথচারী ও বিভিন্ন দোকানে থাকা লোকজন। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে পাল্টে যায় চিরচেনা চাষাড়া এলাকা। মার্কেটের নিচে ছিল না কোন রিকশার জট, অবৈধ গাড়ি পার্কিং কিংবা যত্রতত্র বাসের যাত্রী উঠানো নামানো।IMG0
এ সময় শামীম ওসমান নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন, ‘পুরো শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দ্বায়িত্বে আছেন মাত্র ছয়জন ট্রাফিক সদস্য। তাই শুধু সরকার বা পুলিশের উপর নির্ভর না করে আগে নিজেদের পাল্টাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন জনগণের ট্যাক্স নিচ্ছে কিন্তু যানজট নিরসনে দ্বায়িত্ব এড়িয়ে যাবে এটা হতে পারে না। শহরের উপর নাসিকের প্লেটযুক্ত (লাইসেন্স) রিকশার সংখ্যা কত তা আমরা জানি না। আর এই রিকশাই হল যানজটের অন্যতম কারণ।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত নারায়ণগঞ্জ। সেই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুতা, ইভটিজিং ও জঙ্গিবাদমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর। কিন্তু আপনাদের অংশ গ্রহণ ও সহযোগিতা ছাড়া এই উদ্যোগ সফল করা অসম্ভব। কারণ, এই শহর আপনাদেরও।’
এ উদ্যোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা তিনদিন শহরে থাকব। ‘চাষাঢ়া মোড়, কালীবাজার মোড় , ২নং রেল গেট, ১ নং রেল গেট’ এ চারটি স্পটে আমরা শুধু ট্রাফিকদের নিয়ন্ত্রণ করব। এ থেকে যানজট মুক্ত করার অর্জিত অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বিনিময় করব যাতে করে শহরকে যানজটমুক্ত রাখা যায়।’
এদিকে শহরের অপর তিনটি স্পটেও বিএনসিসির সদস্যদের সঙ্গে দ্বায়িত্ব পালন করেন মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এবং পরিবহন শ্রমিক-মালিক সংগঠনের নেতারা।
