ফ্যাশনের বিবর্তন সব কালে সব যুগেই হয়ে আসছে। ক্রমেই মানুষ তাদের জীবনে নানা ফ্যাশনের রং বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছেন। পুরুষদের দাড়ির ফ্যাশনেও আসে সেরকমই পরিবর্তন। কিন্তু সবাইকে সবকিছু ঠিকভাবে মানিয়ে উঠে না। বিশেষ করে দাড়ির কাটে খেয়াল রাখা উচিত মুখের আকৃতিটি কেমন। কেননা মুখের আকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাঁড়ির কাটটি দিলে পুরুষদের অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগে। আসুন জেনে নিই, কোন আকৃতির মুখে ঠিক কেমন ধরনের দাড়ির কাট মানায়।
গোলাকার মুখের জন্য
আপনার মুখের আকৃতি যদি গোলাকার হয়ে থাকে তাহলে কোনোভাবেই আপনার দাড়ির কাটটি প্রশস্ত হওয়া উচিত না। কেননা এতে করে মুখের আকৃতি আরও বেশি গোলাকার দেখানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই আপনার দাড়ির কাটটি এমনভাবে দিন যেন এর ফলে আপনার মুখটা কিছুটা লম্বাটে দেখায়। এর জন্য দাঁড়ির নিচটুকু একটু বড় রাখুন এবং পাশে গালের অংশে হালকা দাঁড়ি রাখুন। এক্ষেত্রে আপনি চিবুকটি কিছুটা কম লম্বাটে রাখতে পারেন।
লম্বাটে মুখের জন্য
গোলাকার মুখের আকৃতির জন্য যে ধরনের দাড়ির কাট তার ঠিক বিপরীত কাটটি হবে লম্বাটে মুখের জন্য। অর্থাৎ এই কাটে আপনি চিবুকের অংশে দাড়ি ছোট ছোট রেখে পাশের অংশে একটু বড় দাড়ি রাখতে পারেন। এতে করে মুখের পাশের অংশটি বেশ ভরাট দেখাবে। তবে লম্বাটে মুখে চিপের অংশটি বড় রাখলে দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগে।
চতুর্ভূজাকৃতির মুখের জন্য
কারও কারও মুখের আকৃতি কিছুটা চতুর্ভূজাকৃতির মতো। এই ধরনের আকৃতির মুখের জন্য দাড়ির কাটটি হবে একেবারে গোলাকার মুখের দাড়ির কাটের মতো। গালের অংশে ছোট ছোট দাঁড়ি এবং চিবুকে একটু বড় দাড়ি থাকবে অর্থাৎ দাড়ির কাটটি ফ্রেঞ্চ কাটের মত হবে।
বড় মুখের জন্য
বড় ধরনের মুখের জন্য দাড়ির কাটটি হবে একেবারে ভিন্ন ধরনের। এর আসল উদ্দেশ্যই থাকবে মুখের আকৃতিটাকে কিছুটা ছোট দেখানো। এর জন্য দাঁড়ি বেশ বড় রাখতে পারেন। প্রয়োজনে গোঁফের অংশটিও একটু বড় করতে পারেন।
ছোট মুখের জন্য
ছোট আকৃতির মুখে একেবারে ছোট একটি দাড়ির কাট দিতে পারেন। এই ধরনের মুখে দাড়ি বড় রাখলে খুব একটা ভালো দেখায় না। এজন্য খোঁচা খোঁচা হালকা দাড়ি রাখলেই পুরুষদের দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগে।
ডিম্বাকৃতির মুখের জন্য
আপনি যদি ডিম্বাকৃতি মুখের অধিকারী হন তাহলে আপনি অনেক বেশি সৌভাগ্যবান পুরুষদের মাঝে একজন। কেননা পুরুষদের একটি আদর্শ মুখের আকৃতি হল এই ডিম্বাকৃতির মুখ। এই ধরনের আকৃতির মুখে যেকোনো ধরনের দাড়ির কাটই খুব সুন্দর মানিয়ে যায়। তাই এই আকৃতির মুখে যেকোনো কাটই আপনি নিঃসন্দেহে দিতে পারে৷
কিন্তু শুধু দাড়ি রাখলেই তো হল না, তার চাই বিশেষ যত্ন। চুলের যত্নের পাশাপাশি দাড়ির যত্নও প্রয়োজন। তাছাড়া সবার দাড়ি একই রকম হয়ে থাকে না। কারোটা পাতলা তো কারোটা ঘন। দাড়ি পরিস্কারের জন্য গোসলের সময়ের সাধারন সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করা ঠিক নয়। দাড়ি পরিস্কারের বিশেষ শ্যাম্পু পাওয়া যায়। কমপক্ষে সপ্তাহে একদিন বড় দাড়িতে কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত। আর যাদের দাড়ি তুলনামূলক একটু রাফ, তাদের সপ্তাহে দুবার কন্ডিশনার ব্যবহার করা জরুরি। আর পরিস্কারের পর তা ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে। নতুবা পরবর্তীতে চুলকানি বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
