যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ ঠাকুরগাঁও চিনিকল

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৬, ১৪:২৫
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৯ দিন ধরে ঠাকুরগাঁও চিনিকলের আখ মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। 
 
এতে মৌসুমের শুরুতেই বিপাকে পড়েছেন জেলার শত শত আখ চাষি। তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করছেন।
 
গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেন ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ২০১৫-১৬ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন। চলতি মৌসুমে ৯০ হাজার মে. টন আখ মাড়াই করে ৬ হাজার ৫২৫ মে. টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ২২ হাজার ৭শ মে. টন আখ মাড়াই করে ১ হাজার ৫০ মে. টন চিনি উৎপাদনের পর বন্ধ হয়ে যায় মিলটি। মিলটি বন্ধ থাকায় জেলার আখ চাষিরা ৫ দিন ধরে মিলগেটে আখ এনে সরবরাহ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে। দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। মাঠে ৫১ টি কেন্দ্রে ক্রয়কৃত আঁখ পড়ে রয়েছে। 
 
ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে আখ মাড়াই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৩ দিনের মধ্যে মেরামত শেষ হবে আশা করছি। ক্রয়কৃত আঁখ পঞ্চগড় ও সেতাবগঞ্জ চিনি কলে পাঠানো হচ্ছে।
 
কেন্দ্রীয় আঁখ চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম জানান, অবিলম্বে মিলটি মেরামত করে চাষিদের কাছ থেকে আঁখ নেয়ার জন্য কতৃপক্ষকে আমরা চাপ দিয়েছি। 
 
চিনিকল শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জানান, মিলটি চালুর পর থেকে বিভিন্ন সমস্যা লেগেই রয়েছে। এতে চিনিকল আর্থিক ক্ষতির সমুক্ষিন হচ্ছে।  
 
আখচাষিদের অভিযোগ, মিল কতৃপক্ষ চাষিদের সঙ্গে সমন্বয় না করায় হয়রানীর শিকার হচ্ছেন তারা। গত ১৮ ডিসেম্বর মিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে এ পর্যন্ত ৯ দিন বন্ধ থাকে। প্রশাসনের সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়ম আর উদাসীনতার কারণে মিলের সংস্কার করা হচ্ছে না। এতে মিলটিকে একদিকে বারবার লোকসান গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে আখচাষিদের দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
 
উল্লেখ্য, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে আখ মাড়াই মওসুমে ৯০ হাজার টন আখ মাড়াই করে ছয় হাজার ৫শ ২৫ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মিলে গত তিন বছর ধরে অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে ১২ হাজার ৪৪ টন চিনি।