পার্বতীপুর শহরের চার ভাগের তিন ভাগ এলাকা রেলওয়ে ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতাযুদ্ধ শেষে অবাঙালিরা শহর ছেড়ে চলে গেলে তাদের ফেলে যাওয়া রেলওয়ে ভূমির ওপর বাঙালিরা দোকানপাট ও বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকে ও ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত রেলওয়ের প্রতি স্কয়ার ফুট ভূমির খাজনা ছিল মাত্র পঁচিশ পয়সা। এই খাজনা বাড়তে বাড়তে ৪ টাকায় পৌঁছলে ব্যবসায়ীগণ রেলওয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে মাননীয় হাইকোর্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট রেলওয়ের পক্ষে রায় প্রদান করেন। সেই সময়ে রেলওয়ে ভূমির ৪ টাকার খাজনা বর্তমানে প্রতি স্কয়ার ফুট ৩২ টাকা নির্ধারণ করায় ৯০% রেলভূমির খাজনা অপরিশোধিত রয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে, যাদের বাড়িঘর বা দোকানঘরের খাজনা পরিশোধ করা নাই, তাদের বসতবাড়ি ও দোকানঘরে লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এজন্য ভুক্তভোগীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ আমলে যে জমির ওপর পার্বতীপুর রেল জংশন প্রতিষ্ঠিত হয় তা হুকুম দখল করা জমি। বর্তমানে যাত্রী পরিষেবা ও সরকারি ফুয়েল পরিবহন ছাড়া রেলওয়ের আর কোনো পরিষেবা নাই। লোকবলের অভাবে অনেক ট্রেন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং বর্তমানে যে সমস্ত জমি রেলওয়ের কোনো কাজে লাগার সম্ভাবনা নেই, সেগুলো মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে অথবা রেলওয়ের পতিত জমিগুলোকে সরকারি খাস জমি হিসাবে ঘোষণা করে জনগণকে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। মানবিক কারণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বিবেচনা করতে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
ইতি মেহ্দী (বীথি)
প্রভাষক, পার্বতীপুর আদর্শ কলেজ, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
