নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইল এলাকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার পাঁচজনের বাড়িই ময়মনসিংহের নান্দাইলে। নৃশংশতার শিকার তাসলিমা আক্তারের পরিবারে মা ছাড়া আর কেউ রইলো না। এ খুনের খবর নান্দাইল উপজেলার চরভেলামারী গ্রামে পৌঁছালে স্বজনের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
রবিবার সকালে চরভেলামারী গ্রামে গিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে বাবুরাইল এলাকায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আব্দুল বারেকের মেয়ে তাসলিমা আক্তার (৩৮), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫) ও ছোট ভাই মোরশেদুল (২২) এবং জা লামিয়া আক্তার (২৫)। তাসলিমা তার স্বামী শফিকুল ইসলাম ও দেবর শরীফ, জা লামিয়া আক্তারসহ অন্যরা বাবুরাইল এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। তাসলিমার মা মোর্শেদা ঢাকার কলাবাগান এলাকায় থাকেন। মেয়ে-ছেলে ও নাতিদের হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
চরভেলামারী গ্রামে তাসলিমার বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া তার বড় খালা খোদেজা ও খালু আ. কাদিরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন বছর আগে সর্বশেষ তাসলিমা তার সন্তান ও মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। তার বাবার বাড়ি ত্রিশালের ইছামতি (পাটুলি) গ্রামে। কিন্তু তাসলিমার শিশু বয়সে তার বাবার সঙ্গে মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় চরভেলামারী নানার বাড়িতে বড় হয় সে ও তার ছোট ভাই মোরশেদুল। প্রায় ১২ বছর আগে তাসলিমা ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় পরিচয় হয় ঈশ্বরগঞ্জের বৈরাটি গ্রামের প্রাইভেটকার চালক শফিকুলের সঙ্গে। সে সূত্রে তাদের বিয়ে হলে ঢাকাতে বসাবাস শুরু করে। কিছুদিন আগে সে ঢাকা কলাবাগান ছেড়ে নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইল এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়।
তাসলিমার সৌদি প্রবাসী খালাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বোরহান উদ্দিন অভিযোগ করেন, তাসলিমাসহ তার নিকটতম চারজন ও জা লামিয়া নিহত হলেও স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি হতাহত হয়নি। এমনকি প্রতিদিন সবাই এক সঙ্গে থাকলেও ঘটনার সময় তারা কেউ বাসায় ছিলেন না। বিষয়টি তাদের কাছে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
