দেশের বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জয়পুরহাট চিনিকলের আখ মাড়াই শুরু হওয়ার এক মাসের মাথায় রবিবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দুই শ ৪৫ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চিনিকলে ২০১৫-২০১৬ মাড়াই মৌসুম শুরু হয়েছিল গত ১১ ডিসেম্বর। এবার ৬৫ হাজার মেট্টিক টন আখ মাড়াই করে চার হাজার আট শ ৭৫ মেট্টিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৫৩তম মাড়াই মৌসুম শুরু হলেও মাত্র ৪৪ হাজার ৩০৫ মেট্টিক টন আখ মাড়াই করে তিন হাজার ৪২ দশমিক ৭৫ মেট্টিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়েছে। আখের অভাবে রবিবার জয়পুরহাট চিনিকলে চলতি মৌসুমের আখ মাড়াই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। চিনি আহরণের শতকরা হার ছিল ৬ দশমিক ৮৭। গত ২০১৪-২০১৫ মাড়াই মৌসুমে ৮১ হাজার মেট্টিক টন আখ মাড়াই করে পাঁচ হাজার নয় শ ৪৩ মেট্টিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়েছিল।
চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট চিনিকলের এ পর্যন্ত ৫২ টি মাড়াই মৌসুমের মধ্যে ৩২ টি মৌসুমে লোকসান হয়েছে দুই শ ৪৫ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। এবারের লোকসানের হিসাব না হলেও বর্তমানে জয়পুরহাট চিনিকলে সাত হাজার তিন শ ৮৭ দশমিক ৮৫ মেট্টিক টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। যার মূল্য ২৭ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৫০ টাকা। এর মধ্যে গত ২০১৪-২০১৫ মাড়াই মৌসুমে উৎপাদিত চার হাজার তিন শ ৪৫ মেট্টিক টন চিনি রয়েছে।
চিনিকলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম বলেন, ‘অন্যান্য ফসলের দাম ভাল পাওয়ায় গত মৌসুমে চাষিদের আখ চাষের দিকে ঝোঁক কম ছিল। যে কারণে আখের অভাবে মিল চালুর ৩৩ দিনের মাথায় রবিবার মাড়াই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে মূল্য পরিশোধে কোনো সমস্যা না হওয়ার ফলে কৃষকদের মধ্যে এবার আখ চাষে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
অপরদিকে চিনিকলের আখচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আগে মূল্য পরিশোধে সমস্যা থাকলেও বর্তমানে নেই। তবে আখের মূল্য বৃদ্ধি না করলে কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহী হবে না।’
আখ দীর্ঘ সময়ের ফসল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বল্প মৌসুমের অন্যান্য ফসলের দাম তূলনামূলক বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে আখ চাষির সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে।’
