প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুসন্ধান

জলঢাকায় পাল বংশের নিদর্শন উদ্ধার

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৬, ২৩:১১
নীলফামারী জেলায় এই প্রথম পাল বংশের  নিদর্শনের সন্ধান পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
জলঢাকা উপজেলার গড় ধর্মপাল ইউনিয়নের পূর্ব খেরকাটি নামক স্থানে এ নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া যায়। ১ জানুয়ারী থেকে অধিদপ্তরের একটি টিম অনুসন্ধান চালিয়ে এ নিদর্শনের সন্ধান পায়। গত শনিবার থেকে এর খনন কাজ শুরু করে প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ একটি টিম। সোমবার পর্যন্ত ধ্বংসাবশেষ এর প্রাচীন কিছু নিদর্শন উদ্ধার করতে পেরেছে প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মহাস্থান জাদুঘরের সহ-কস্টোডিয়ান এসএম হাসানাত বিন ইসলাম জানান, স্থানটিতে ১৯৯০ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খনন কাজ পরিচালনা করেছিলেন। এ ছাড়া একই সময়ে দক্ষিণ বাহুতে কয়েকটি স্থানে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট গভীরে খনন করা হয়েছিল। তখন এর কাঠামোটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়নি। প্রতিবছর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বার্ষিক কর্মসুচির আওতায় এ বছর আবার ২য় বারের মত অনুসন্ধান চালালে আমরা এ প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাই।
তিনি আরও জানান, এই চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি ধারণা করেন অত্র এলাকায় আরও অনুসন্ধান চালালে পালবংশের আরও কিছু নিদর্শন পাওয়া যেতে পারে। ওই এলাকার শিক্ষাবিদ ও ইতিহাস গবেষক  অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক এজিএম নোমান জানান, পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল পালের (৭৫০ খ্রি:) মৃত্যুর পর তার পুত্র ধর্মপাল রাজ সিংহাসনে আরোহন করেন। তিনি জলঢাকা উপজেলার উত্তর পশ্চিমে প্রায় ২০ মিলোমিটার দুরে তার রাজধানী স্থাপন করেন। বহিঃ শত্রুর হাত থেকে রাজ্যকে রক্ষার জন্য মাটির প্রাচীর দ্বারা তিনি তার রাজধানীকে বেষ্টিত করেন। সেই থেকে স্থানটির নাম হয় গড়ধর্মপাল। জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যে জলঢাকা ব্যতীত আর ৫টি উপজেলায় এর কোন চিহ্ন নেই। এখানকার মানুষের ধারণা প্রায় ১২শ  বছর আগে বৌদ্ধধর্ম ও সনাতন ধর্মীয় পুরোহিতরা এ স্থাপনা নির্মান করেছিলেন।
প্রাচীন নিদর্শন দেখতে আসা শতবর্ষি এক বৃদ্ধ শশীনাথ এ প্রতিবেদককে জানান, বয়স আমার শত পেরিয়ে গেছে। জন্মের পর থেকে শুনে আসছি প্রাচীনতম রাজারা ধর্মের স্থাপনা নির্মানের জন্য ধর্মপাল নামক স্থানে রাজ্য সভা পরিচালনার কাজ করতেন।
অনুসন্ধান টিমের ফিল্ড ডিরেক্টর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি টিম ধর্মপাল এলাকায় এ নিদর্শন উদ্ধারে কাজ করছেন। এরা হলেন, বগুড়া মহাস্থান জাদুঘর কস্টোডিয়ান মুজিবুর রহমান, রংপুর জাদুঘর কস্টোডিয়ান আবু সাইদ ইনাম তানভিরুল, রাজশাহী বিভাগের সিনিয়র ড্রাফসম্যান আফজাল হোসেন, রাজশাহী বিভাগের আলোকচিত্রকর আবুল কালাম আজাদ, সার্ভেয়ার লোকমান হোসেন। প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনের সন্ধান মেলায় সেখানে নেমে আসে হাজারো মানুষের ঢল।
প্রতিদিন এ নিদর্শন একনজর দেখার জন্য অনেকেই দুর দুরান্ত থেকে দলবেধে ছুটছেন সেখানে। ভিড় এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান হাবিব, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মিজানুর রহমান ও শাহাজাহান কবির।