পাকিস্তানের বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নওয়াব আকবর বুগতি হত্যা মামলায় দেশটির সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মুশাররফকে খালাস দিয়েছে আদালত। মুশাররফের শাসনামলে ২০০৬ সালে বেলুচিস্তানে এক সামরিক অভিযানে নিহত হন বুগতি। বেলুচিস্তানে রাজনৈতিক স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে বুগতি আদিবাসী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। অভিযানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে নিহত হন বুগতিসহ আরও অনেক বিদ্রোহী যোদ্ধা।
বুগতিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুশাররফ- এ অভিযোগে গতবছর জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলায়ই প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার সন্ত্রাস-বিরোধী আদালত সোমবার মুশাররফকে খালাস দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। মুশাররফ ২০১৩ সালে নির্বাসন থেকে পাকিস্তানে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার মধ্যে এ মামলা থেকেই প্রথম খালাস পেলেন তিনি। আদালতের এ রায়ে অসেন্তোষ প্রকাশ করে এর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে যাওয়া হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বুগতি পরিবার পক্ষের আইনজীবী সোহালি রাজপুত।
মুশাররফের বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলাগুলোর মধ্যে আছে ২০০৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলা, দেশদ্রোহের মামলা এবং ইসলামাবাদে লাল মসজিদের ইমাম হত্যা মামলা। মুশাররফ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বেনজির হত্যা মামলা এবং দেশদ্রোহের মামলায় জামিনে মুক্তি নিয়ে আছেন মুশাররফ।
তিনি বেশিরভাগ সময় পাকিস্তানেই থাকছেন। সাবেক এই জেনারেল ১৯৯৯ সালে সেনাঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওই বছর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বেচ্ছা নির্বাসনে দুবাই এবং লন্ডনে কাটিয়েছেন মুশাররফ। ২০১৩ সালে নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দিতে পাকিস্তানে ফিরে যান তিনি। কিন্তু একের পর এক মামলায় জড়িয়ে পড়ে তিনি নির্বাচনে দাঁড়ানোর অযোগ্য ঘোষিত হন। বিবিসি।
