ইত্তেফাক রিপোর্ট
চকবাজার এলাকার কিশোর সিজান হত্যায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃত এ দুজন হলো হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ ইমন (১৯) ও হত্যাকাণ্ডের সহযোগী মোঃ মুন্না মিয়া (১৮)। এদের মধ্যে গত সোমবার রাতে কক্সবাজারের লাইট হাউজ এলাকা হতে ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে বংশাল এলাকা হতে মোঃ মুন্না মিয়াকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পুলিশ তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ১টি চাকু ও নিহতের ব্যবহূত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিজানকে মোবাইলে কল করে বাসা থেকে ডেকে নেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর তাকে ১৪নং বকশিবাজার রোডে নিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে এক রিকশা চালক রাস্তা থেকে সিজানকে তুলে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ঘন্টা খানেকের মধ্যে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সিজান মারা যান।
পিবিআই সূত্র জানায়, সিজান হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গত গত ১০ মার্চ সিজানের বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চকবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। চকবাজার মডেল থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ঢাকার একটি বিশেষ টিমও অভিযানে নামে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের সাহায্যে পিবিআইয়ের সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করে।
পিবিআই সূত্র আরো জানায়, গ্রেফতারককৃতরা পিবিআইয়ের কাছে স্বীকার করে জানিয়েছে, বংশাল ও চকবাজার থানার সুরিটোলা, চানখারপুল ও মালিটোলা এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি সিনিয়র-জুনিয়র গ্রুপ বিদ্যমান। যার একটি ইমন সমর্থিত এবং অন্যটি সিজান সমর্থিত। উক্ত গ্রুপ দুটির মধ্যে অনেকদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের এক/দেড় মাস পূর্বে এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সিজানের সাথে ইমনের কথা কাটাকাটি হয়। এ কথা কাটাকাটির জের ধরে সিজান গ্রুপের ছেলেরা ইমনের গ্রুপের একজনকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে। এরপর গত ৭ মার্চ রাতে ইমন ও মুন্না সিজানকে মোবাইল ফোনে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ইমন ও মুন্নাসহ তার সহযোগীরা সিজানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।
