ভিন্ন ভিন্ন রাজনীতি করলেও বিবাদ করা যাবে না ------আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৬

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, আমাদের ভিন্ন ভিন্ন রাজনীতি থাকতে পারে, তবে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-ফ্যাসাদ এবং বিবাদ করতে আল্লাহতালা নিষেধ করেছেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য আমাদের মধ্যে ঐক্য আছে। যতদিন আপনারা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন ততদিন এ এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ ও রসুলের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা চলবে না। যারা এটা করবে তাদের বিচার আল্লাহ করবেন।

গত সোমবার রাতে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া বাসস্ট্যান্ড কলেমা চত্বরে ছয় দিনব্যাপী ১৯তম তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের শেষ দিনে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ মাহফিলের আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। আপনারা জানেন আজ ভাণ্ডারিয়াবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ভারত সরকারের অর্থায়নে ১১টি বিশুদ্ধ পানি শোধনাগার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে উদ্বোধন করেছেন। শুধু ভাণ্ডারিয়া পৌরসভায় নয়, অনুরূপ ভাবে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ উপজেলার বাকি ছয় ইউনিয়নের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মনে হলো আমরা রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ নানাবিধ ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে সক্ষম হলেও একটি বিষয় মনে দাগ কাটে। আর সেটি হলো এলাকার মানুষ বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারেন না। এখানে পানিতে লবণাক্ততা, আয়রন, আর্সেনিক থাকায় মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। এ বিপদ থেকে রেহাইয়ের জন্য মানুষ যাতে বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছি। দেশের অন্য কোনো উপজেলায় এভাবে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা বিরল। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশে অশান্তি, মারামারি, ঝগড়া-ফ্যাসাদ রয়েছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর আপনাদের সেবা করতে সক্ষম হয়েছি। এই ভাণ্ডারিয়ায় আল্লাহ্র বিশেষ রহমত রয়েছে বলে তা সম্ভব হয়েছে। তাই আজ আমরা আল্লাহ্র কাছে শুকরিয়া আদায় করব। আমরা যে পরিকল্পনা করে করেছি শুধু তা নয়, মহান আল্লাহ্তালার রহমতে এসব কিছু করা সম্ভব হয়েছে। সে জন্য আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নাই। কারণ যা কিছু দেওয়ার মালিক হলো আল্লাহ্তালা। এ পর্যন্ত আমরা যা কিছু শুরু করেছি বা যে কোনো কাজ করার পূর্বে তা ইনশাল্লাহ বলেই শুরু করেছি। এ জন্য ভাণ্ডারিয়া বাসস্ট্যান্ডে ‘কলেমা চত্বর’, উপজেলার চরখালী গোল চত্বরে ‘বিসমিল্লাহ্ চত্বর’ এবং ধাওয়া ইউনিয়নে ফুলতলায় ‘সোবাহানাল্লাহ চত্বর’ সরকারি অর্থ ছাড়াই আল্লাহর হুকুমে আপনাদের দোয়ায় নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এখন এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং পবিত্রতা রক্ষায় এলাকাবাসীর আন্তরিক হতে হবে। ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে মুসলমান হলে চলবে না, আল্লাহর সব আদেশ-নির্দেশও মানতে হবে। আর তা ঈমান, আমানের সাথে বিশ্বাস করতে হবে।

এ সময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি মুসল্লিদের উদ্দেশে আরও বলেন, এ তাফসিরুল কোরআন মাহফিল থেকে অর্জিত ইসলামের বাণী মনে-প্রাণে আমল করতে হবে। ঈমান আমানের সঙ্গে কোরআনের আইন মানতে হবে ও আল্লাহ রসুলে বিশ্বাস করতে হবে এবং কোনো কাজ শুরুর পূর্বে বিসমিল্লাহ বলে শুরু এবং ঘুমানের পূর্বে তওবা করা উচিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহতালা আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন কাজ করার জন্য। কিন্তু তিনি কাজের ফাঁকে নামাজ আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যদি কেউ সময়মতো কোনো কারণে নামাজ আদায় করতে না পারেন তা হলে তা পরবর্তী সময় কাজা আদায় করার বিধান দিয়েছেন। 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. নাজমুল আলম, জাতীয় পার্টি-জেপির উপজেলা আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলাম, জেপির উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন মামুন, পৌর কাউন্সিলর জালাল উদ্দিন সিকদার, সেন্টু মোল্লা, বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম খোন্দকার, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ সিকদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ীবৃন্দ, বিভিন্ন স্তরের মুসল্লিগণ আখেরি মোনাজাতে শরিক হন। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন হযরত মাওলানা আবুল কাসেম আশরাফী। বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত তাফসির মাহফিলের শেষ দিনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আলতাফ উদ্দিন সিকদার।