সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে সাত বছর কারাদণ্ড

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৯

সিলেট উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক কার্যালয়ের সার্জেন্ট মোঃ আজাহার আলীকে (অব.) অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপন করার দায়ে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পৃথক দুই ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একটিতে পাঁচ বছর ও অপরটিতে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ওই দণ্ড একইসঙ্গে কার্যকর হবে বলে বিচারকের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে মামলার রায় দেন বিচারক সৈয়দ কামাল হোসেন। আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। জামিনে থাকা আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে তার ৭৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩২৯ টাকার সম্পদ অবৈধ ঘোষণা দিয়ে বাজেয়াপ্ত করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে বলা হয়, আসামির রাজধানীর গুলশান-১ এ একটি ফ্ল্যাটের তত্কালীন ক্রয়মূল্য ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে অবৈধ চৌদ্দ লাখ ৪১ হাজার ৫৯৭ টাকা, গ্রিন রোডের বাড়ির নির্মাণ ব্যয় এক কোটি ২২ লাখ ৮২ হাজার ৮২৯ টাকা। এর মধ্যে অবৈধ ৫৬ লাখ ১১ হাজার ৮শ টাকা ও ধানমন্ডির ফ্ল্যাটের তত্কালীন ক্রয়মূল্য ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে অবৈধ ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হলো। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন দুদকের পিপি আবদুর রাজ্জাক মিয়া। তবে আসামির পক্ষের আইনজীবী এম মিজানুর রহমান ন্যায়বিচার পাননি মর্মে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ আজাহার আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। চার্জশিটের অপর পাঁচ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ১৫ জন সাক্ষী দেন। আসামির পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেয় চারজন।

এর আগে ২০১৫ সালের ১৬ জুন আজাহার আলীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ মোনায়েম খান। চার্জশিটৈ ২৫ জনকে সাক্ষী করেন। তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের পর আজাহার আলীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক।