গণমাধ্যমে বিশেষত প্রিন্ট মিডিয়ার রিপোর্ট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় ও নিয়মিত কলামও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। কলাম যে কোনো পত্রিকার প্রাণ, এই বিভাগটি আগেও জনপ্রিয় ছিল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয়। সে কারণে জনমত গঠনে কলাম লেখকদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সমাজের অগ্রগতি, অসংগতি, বৈষম্য, বিচার হীনতার সংস্কৃতি রাজনীতির সংকট ভিন্ন কৌশল চিত্র সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় ও কলামে উঠে আসে।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রচার ও গণমাধ্যম উপ-পরিষদ আয়োজিত সুফিয়া কামাল ভবনের আনোয়ারা বেগম, মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘কলাম লেখকরাই পারেন সমাজের রূপান্তর ঘটাতে’— এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।
কলামনিস্ট খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, মানবাধিকারের প্রশ্নে নারী আগের চাইতে অনেক অগ্রসর হয়েছে। পাকিস্তান আমলে ব্যাংকে নারীরা কাজ করতেন না। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই তা সম্ভব ছিল না। ক্রমশ এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। কেউ নারী বলে তাকে আটকে রাখার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো প্রয়োজন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আশির দশকে কলাম লেখকদের বিষয় নির্বাচন, বক্তব্য প্রকাশের এক ধরনের স্বাধীনতা ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নারীর নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে— নারী আন্দোলনকে সেই পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।
তুষার কণা খোন্দকার বলেন, নারীর প্রসঙ্গ উঠলে সবসময় ধর্মের রেফারেন্স টানা হয়; কিন্তু নারীর বিষয়টি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে ভাবা প্রয়োজন।
মুহম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, কলাম লেখকদের বক্তব্য প্রকাশের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং নির্বাহী সম্পাদকের ইতিবাচক পদক্ষেপ।
মূল বক্তব্যে দিল মনোয়ারা মনু বলেন, মানুষের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যম তথা বিভিন্ন দৈনিকের কলাম লেখকরা শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারেন। দেশের সমস্যা মোকাবেলা, অগ্রযাত্রা, সার্বিক উন্নয়ন ও উত্তরণে যে সকল চ্যালেঞ্জ রয়েছে সে সম্পর্কে কলাম লেখকরা অনেক বেশি সচেতন। তাই সঠিক তথ্য, উপাত্ত ও বিশ্লেষণ দিয়ে জনগণকে সচেতন, সতর্ক ও উদ্বুদ্ধ করা তাদের পক্ষে সম্ভব।
সভাপতি আয়শা খানম বলেন, গণমাধ্যম এবং কলাম লেখকরা নারী আন্দোলনের সহযোদ্ধা। তিনি কলাম লেখকদের নারী আন্দোলনের বক্তব্যগুলো তাদের লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরতে আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মমতাজ লতিফ, সোহরাব হাসান, ইলিরা দেওয়ান, নীলরতন হালদার, রাজীব মীর, কাজী তামান্না, আশা মেহেরীন আমিন, কাওসার রহমান, সঞ্জীব দ্রংসহ ১৩ জন কলাম লেখক। এছাড়াও সংগঠনের সহ-সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, রেখা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, প্রশিক্ষণ গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ, রোকেয়া সদন সম্পাদক নাসরীন মনসুর, পরিবেশ সম্পাদক পারভীন ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন প্রচার ও গণমাধ্যম উপ-পরিষদের সদস্য সাংবাদিক মুনিমা সুলতানা।
