বিড়ালও মনরোগের কারণ হতে পারে

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৩:২২
বিড়ালের মাধ্যমেও স্কিত্‍‌জোফ্রেনিয়ার মতো দুরারোগ্য মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
 
একদল ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর গবেষণায় এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গবেষণায় মানসিক ব্যাধি আর বিড়াল পোষার মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ খুঁজে পাওয়া গেছে।
 
'স্কিত্‍‌জোফ্রেনিয়া রিসার্চ' নামে এক জার্নালে প্রকাশিত সাম্প্রতিক নিবন্ধ বলা হয়েছে, জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত শিশুর পরিবারে বহু সময়েই বিড়াল পোষার শখ দেখা গিয়েছে।
 
১৯৮২ সালে ২১২৫টি পরিবারের উপর এক সমীক্ষাকরে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল ইলনেস। ওই রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, স্কিত্‍‌জোফ্রেনিয়া আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ৫০.৬ শতাংশের পরিবারে কোনও সময় বিড়াল পোষার চল ছিল। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকের এক সমীক্ষা রিপোর্টেও একই ফল পাওয়া যায়।
 
মনোবিদদের মতে, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে একজন জীবনে কখনও স্কিত্‍‌জোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন। এই জটিল মানসিক রোগ সাধারণত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে কিছু কিছু উপসর্গ লক্ষ্য করা যায় যেমন অলীক দৃশ্য দেখতে পাওয়া অথবা প্রায়ই দৃষ্টি বিভ্রমের শিকার হওয়া।
 
কিন্তু জটিল মানসিক রোগের সঙ্গে বিড়ালের কী সম্পর্ক?
গবেষকরা জানিয়েছেন, কিছু কিছু বিড়ালের শরীরে টক্সোপ্লাজমা গনডিই (Toxoplasma gondii) নামে এককোষ বিশিষ্ট পরগাছা রয়েছে। এবং এর উপস্থিতিই এ রোগ ছড়ায়। স্ট্যানলি মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর গবেষক ই ফুলার টরে জানিয়েছেন, 'টি গনডিই মানুষের মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ে এবং আণুবীক্ষনিক সিস্ট তৈরি করে। আমাদের মনে হয়েছে বয়ঃসন্ধির সময় সিস্টগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা নিউট্রোট্রান্সমিটারগুলিকে প্রভাবিত করে, যার ফলে মানবদেহে স্কিত্‍‌জোফ্রেনিয়া দেখা দেয়।'
 
উল্লেখ্য, অতীতে এক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে রক্তের শ্বেতকণিকায় আশ্রয় নিয়ে শরীরের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ করে টক্সোপ্লাজমা গনডিই। এই পরগাছা নানা প্রাণীর দেহে বেঁচে থাকলেও একমাত্র বিড়ালের শরীরেই পূর্ণ জীবনকাল জীবিত থাকতে পারে। বিড়ালের মলের মাধ্যমে তার শরীর থেকে বেরিয়ে আসে এই পরগাছা।