দেশে প্রতি ঘণ্টায় কিডনি বিকল হয়ে অকালে মারা যাচ্ছেন পাঁচজন। কিডনি বিকল হলে এর চিকিত্সা ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন করা। এ চিকিত্সা পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। যা বেশিরভাগ রোগীর পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বছরে ৪০ হাজারের মতো মানুষের কিডনি বিকল হয়ে যায়। শতকরা ১০ ভাগ মানুষের পক্ষেও এ রোগের চিকিত্সা ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। অথচ মৃত ব্যক্তির কিডনি সংগ্রহ করে জীবিত রোগীদের সংযোজন করা গেলে বছরে দেড় থেকে দুই হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে কিডনি রোগের চিকিত্সায় হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। সে অনুযায়ী দেশের জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোতে সরকার কিডনি ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছে। অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন অনুযায়ী বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, চাচা-মামা, খালা-ফুফু ও স্ত্রী বা স্বামী রোগীকে কিডনি দিতে পারবেন। এই ১২টি সম্পর্কের বাইরে কারও কাছ থেকে কিডনি নিতে পারবেন না অসুস্থ ব্যক্তি।
কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সোসাইটি অব অরগ্যান ট্রান্সপ্লানটেশন বাংলাদেশের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ বলেন, উন্নত বিশ্বে প্রতিস্থাপন করা কিডনির ২০ থেকে ২৫ ভাগ নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে নেওয়া হয়। অথচ বাংলাদেশে আইনে শতভাগ শুধু নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে কিডনি ডোনার হওয়ার কথা বলা হয়েছে। যা পরিবর্তন করা দরকার। ডায়ালাইসিসের চেয়ে কিডনি সংযোজনের ব্যয় অনেকটাই কম। একজন রোগীর ছয় মাসের ডায়ালাইসিসের জন্য যে খরচ, তা দিয়ে একটি কিডনি সংযোজন করা সম্ভব। কিডনি সংযোজনে রোগী শারীরিকভাবেও অনেক বেশি সুস্থ থাকে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং এন্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ বলেছেন, কিডনির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ অকেজো হওয়ার পর অধিকাংশ রোগী চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। কারণ কিডনির কমপক্ষে ৮০ ভাগ অকেজো হওয়ার পর আলামতগুলো ভেসে ওঠে। ৪০ বছর বয়সের পর বছরে কমপক্ষে একবার হলেও কিডনি পরীক্ষা করা দরকার। এ ছাড়া সচেতনতা এবং সুস্থ জীবন-যাপনের চর্চার মাধ্যমে এ রোগের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আজ মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস। ‘সুস্থ কিডনি, সবার জন্য-সর্বত্র’ —প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর দিবসটি পালিত হচ্ছে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশন, কিডনি ফাউন্ডেশন ও কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং এন্ড প্রিভেনশন সোসাইট (ক্যাম্পস)। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালিত হবে। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বিকালে এক সেমিনারের আয়োজন করে ল্যাবএইড হাসপাতাল। ধানমন্ডির হাসপাতালের লেকচার গ্যালারিতে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউর প্রো-ভিসি অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কিডনিরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আছিয়া খানম প্রমুখ।
