কে এই নুরুল হক

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৯, ২২:৪২

দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি হিসেবে বিজয়ী হওয়ার পর নুরুল হক নুর এখন রাজনৈতিক অঙ্গন এবং শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার শিরোনাম। ছাত্রলীগ, বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীদের মাঝে সাধারণ ছাত্রের ব্যানারে কতটা সাফল্য পাবেন সে নিয়ে শঙ্কার মাঝেই প্রার্থী হন কোটা আন্দোলনের এই নেতা।

নুরুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। বিতর্ক, অভিনয়সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তার জন্ম পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নের একটি সাধারণ পরিবারে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে পরিবারের তৃতীয় সন্তান নূর।

নূরের বাবা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ ইদ্রিস হাওলাদার জানান, নূর মাতৃহারা হয়েছেন ১৯৯৩ সালে যখন তার বয়স পাঁচ থেকে ছয় বছর। যোগাযোগ সমস্যার কারণে তার মায়ের চিকিত্সা করাতে না পারার কারণে সে ডাক্তার হতে চেয়েছিল। চর এলাকাতেই সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। এরপর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চাচাতো বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন এবং কালিয়াকৈর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাস করেন উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। মেডিকেল কলেজে সুযোগ না পেয়ে প্রথমে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।

নুরুল হক কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বের কারণে গণমাধ্যমে পরিচিত মুখ হয়ে উঠার পর থেকেই শারীরিক হামলার শিকার যেমন হয়েছেন, তেমনি সাইবার জগতেও শিকার হয়েছেন আক্রমণের। তিনি শিবির-কর্মী বলে অনলাইনে প্রচারণা চালানো হয়। এমনকি নির্বাচনের ফল ঘোষণার রাতে নুর-এর বিজয়ের খবরে ‘শিবিরের ভিপি মানি না’ এমন স্লোগান দেয় ছাত্রলীগ। তবে শিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ তার পরিবার তা নাকচ করে দিয়েছে।

নুরুল হক এর আগে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল কমিটিতে সক্রিয় ছিলেন। হাজী মুহম্মদ মহসিন হল ইউনিটের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপ-সম্পাদক ছিলেন।

নুরের বাবা ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, রাজনীতিতে প্রতিবন্ধকতা থাকে, নানা ধরনের ঝামেলা থাকে, জেল জুলুম হয়, অন্যায় নির্যাতনের শিকার হতে হয়। আমার ছেলে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীর জন্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে এর শিকারও হয়েছে, তবু আমি চাই সে এটা চালিয়ে যাক। আমার ছেলের দ্বারা দেশের মঙ্গল হোক।

সাধারণ পরিবার থেকে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হলেও একেকটি আন্দোলন তাকে গড়ে তুলেছে বলে তার বাবা মনে করছেন। তিনি বলেন, সে যে আন্দোলন করেছে সেটা সকল মানুষের আন্দোলন ছিল, সারা বাংলার মানুষের সমর্থন পেয়েছে সে। হঠাত্ করে এ জায়গায় আসেনি।