শিশুর দাঁতের যত্ন

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৫:১৩
শিশুদের দাঁতের যত্ন নিতে হয় শুরু থেকেই। এদের যত্ন নেয়া শেখাতে মা-বাবার ভূমিকাই বেশি থাকে।
 
গর্ভে থাকাকালীনই শিশুর দাঁত উঠতে থাকে। দাঁতের মাড়ি ভেদ করে আসতে এ সময় লাগে। তাই দাঁত দেখা না গেলেও এর পরিচর্যা শুরু করতে হয় প্রথম থেকেই।
 
প্রতিবার বুকের দুধ খাওয়ানোর পর শিশুর দাঁতের মাড়ি কোমল কাপড় বা গজ দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে দিতে হবে। এতে শিশু দাঁতে ক্ষয় রোগ থেকে রক্ষা পাবে।
 
গবেষণায় দেখা গেছে, ৮-১৫ বছরের শিশুদের ৫৩-৭৭ ভাগ এ রোগে ভোগে। সঠিক সময়ে যত্ন না নিলে এ রোগ থেকে দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এটি প্রতিরোধ করা যায় সহজেই।
 
শিশুরা মিষ্টি জাতীয় খাবারের ভক্ত। অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবারই এমন হওয়ার মূল কারণ। মিষ্টি খেলে মুখে ব্যাকটেরিয়া হয় বেশি। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করলে দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমে যায়। এ খাদ্যকণা ও ব্যাকটেরিয়া দাঁতের চারপাশে প্লাক তৈরি করে। প্লাকের ব্যাকটেরিয়া মিষ্টি জাতীয় খাবারকে এসিডে পরিণত করে। যে কারণে দেখা দেয় দাঁতের ক্ষয়। এজন্য শিশুদের মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি খেতে দেয়া যাবে না।
চকলেট, আইসক্রিম, কেক, পেস্ট্রি, পুডিং, মধু, জ্যাম-জেলি, কেকের ক্রিম, কোমলপানীয়, জুস কম খেতে দিতে হবে।
 
দাঁত ব্রাশের বিকল্প নেই। দাঁত বের হওয়ার সঙ্গ সঙ্গে শিশুর দাঁত ব্রাশ করা শুরু করতে হবে। তার মানে ছয় মাস বয়স থেকেই টুথপেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে ব্রাশ করতে হবে। অনেকে মনে করেন শিশু তো কিছু খায় না, তাই ব্রাশ করার প্রয়োজন নেই। এটা ঠিক নয়। ব্রাশ না করলে দাঁতের ক্ষয় হয়।
 
মা-বাবাকেই ব্রাশ করিয়ে দিতে হবে। শিশুর ব্রাশ হবে ছোট। ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। ফ্লোরাইড দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। তাই বলে বেশি পরিমাণে টুথপেস্ট দেয়া যাবে না। কারণ, এ ফ্লোরাইড আবার বেশি হলে দাঁতে হলদে ভাব দেখা দেয়। শিশুর ছোট টুথব্রাশের চার ভাগের তিনভাগ পরিমাণ টুথপেস্ট নিয়ে দাঁত ব্রাশ করিয়ে দিতে হবে।
 
শিশুর টুথব্রাশ অবশ্যই হতে হবে নরম ও কোমল। তিন বছর বয়স পর্যন্ত এ পরিমাণ টুথপেস্ট দিয়ে শিশুর দাঁত ব্রাশ করিয়ে দিতে হবে। এ সময়ের পর মটরশুটির দানার পরিমাণ টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। ব্রাশ করতে হবে দিনে কমপক্ষে দুইবার। রাতে খাবারের পর ও দিনে সকালের নাস্তার পর।
 
ঐতিহ্যগতভাবে আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করি। এতে কোনো ভালো ফল পাওয়া যায় না। রাতে খাবারের পর খাদ্যকণা জমে থাকলে তাতে সহজেই ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে দাঁত ক্ষয় করতে পারে। শিশুকেও এভাবেই ব্রাশ করা শেখাতে হবে। ব্রাশ করতে হয় ১-২ মিনিট। সব দাঁতে যেন ব্রাস পৌঁছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। উপর ও নিচে ব্রাশ করতে হবে। ব্রাশের উল্টো পিঠ দিয়ে জিহ্বা ও তালু পরিষ্কার করতে হবে। অনেক শিশু টুথপেস্ট গিলে ফেলে। এটা কিন্তু ভালো নয়। দাঁত ব্রাশ হয়ে গেলে অতিরিক্ত টুথপেস্ট কুলকুচি করে ফেলে দেয়া শেখাতে হবে। শিশু ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ করছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
 
বিভিন্ন কোম্পানির টুথপেস্ট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ব্যবহার করা ভালো। এক টুথব্রাশ ২-৩ মাসের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। অনেক শিশুর দাঁতে হলদে ভাব দেখা যায়। বিভিন্ন ওষুধ ও অতিরিক্ত ফ্লোরাইডের কারণে তা হয়। গর্ভস্থ মা টেট্রাসাইক্লিন সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।
 
দন্ত্য চিকিৎসককে দাঁত দেখানোর কথা আমরা ভুলে যাই। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে প্রথম জন্মদিনের আগেই শিশুকে দন্ত্য চিকিৎসককে দেখাতে হবে। এরপর বছরে অন্তত দুইবার দন্ত্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। দাঁতে ব্যথা, কালচে বা হলুদ ভাব আসলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।