প্রসূতি মায়ের যত্ন

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:০১

‘মা’ এমন একটি শব্দ, যা উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়; মনটা ভরে যায়। কিন্তু এই মা হতে গিয়ে একটি মেয়েকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তার শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অাশঙ্কা থাকে। তাই প্রসূতির জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে সবার ধারণা থাকা দরকার, যাতে সেই বিশেষ সময়ে প্রসূতি মায়ের উপযুক্ত পরিচর্যা করা যায়। মাতৃজঠরে শিশুর অবস্থানকাল হলো ৪০ সপ্তাহ। এই ৪০ সপ্তাহের মধ্যে কত রকম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারেন মা ও গর্ভস্থ শিশু তার ধারণা প্রত্যেকেরই থাকা দরকার।

 

প্রসবের আগে প্রথম তিন মাসের পর থেকে শুরু করে সাত মাস পর্যন্ত অন্তত একবার ডাক্তারের পরামর্শ ও পরীক্ষা করানো দরকার। সাত মাস থেকে ৯ মাস পর্যন্ত দু’বার ও এরপর প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

এই সময়ে রোগীর রক্তের হিমোগ্লোবিন দেখা, ওজন নেয়া, ব্লাডপ্রেসার চেক করা এবং শিশুর পজিশন স্বাভাবিক আছে কি না পরীক্ষা করে দেখা চিকিৎসকের প্রাথমিক কর্তব্য। পরবর্তীকালে মাকে সাত মাসে ও আট মাসে দুটো টিটামল ইনজেকশন দিয়ে মারাত্মক সংক্রামক বাধি টিটেনাস থেকে মা ও গর্ভস্থ শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব। সরকার প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই ইপিআই সেন্টার খুলেছে এবং সেখানে এই ইনজেকশন বিনা পয়সায় দেয়ার ব্যবস্থা আছে। সব ব্যবস্থাই আমাদের হাতের কাছে আছে, শুধু জানা দরকার কখন কী করা প্রয়োজন। প্রসবকালে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং কোনো অভিজ্ঞ নার্স বা দাইকে পাশে রাখা দরকার; এতে করেও মায়ের মনের জোর বাড়ে এবং যিনি প্রথমবারের মতো মা হচ্ছেন তাকে কোনো আধুনিক হাসপাতালে রাখা প্রয়োজন।

প্রসবের পর যারা শারীরিকভাবে দুর্বল থাকেন, এই সময় শিশুর পরিচর্যার ভার তার ওপর ন্যস্ত না করে অভিজ্ঞ সাহায্যকারীর ব্যবস্থা করে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে পারেন। মায়ের বুকের দুধ শিশুর আদর্শ ও সুষম খাদ্য। এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি লাভ ছাড়াও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সুতরাং আমাদের মায়েদের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিতে হবে। এভাবে প্রসূতির যত্ন নেয়ার ব্যবস্থা করে আমরা একলামসিয়া নামক মারাত্মক ব্যাধি, টিটেনাস নামক সংক্রামক ব্যাধি এবং প্রসবজনিত নানা জটিলতা থেকে মা ও শিশুকে রক্ষা করতে পারব। এখন আসা যাক প্রয়োজনীয় ও অত্যাবশ্যক পরিবার পরিকল্পনা সমন্ধে।

প্রসূতি মাকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় পদ্ধতিগুলো সমন্ধে সম্যক জ্ঞান দান করতে হবে, যাতে করে কোলে শিশু থাকা অবস্থায় পুনরায় সে গর্ভবতী হয়ে না পড়ে। এই সময় সাধারণত শিশু বুকের দুধ পান করলে মা সহজে গর্ভবতী হন না।

তবুও এর ব্যতিক্রম আছে এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এই সময় চার দিন থেকে কপারটি নামক অতি আধুনিক কন্ট্রাসেপটিভ ডিভাইস ব্যবহার করা বিজ্ঞানসম্মত ও নিরাপদ। যিনি প্রথমবারের মতো মা হয়েছেন, তার জন্য এবং যিনি একের অধিক সন্তানের জননী তাকে পরিবার পরিকল্পনার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি এবং এর উপকারিতার কথা বলে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমি গ্রহণে সাহায্য করতে হবে। কারণ বিরতি না দিয়ে ঘন ঘন সন্তান গর্ভে ধারণ করলে মা ও শিশু দু’জনেরই স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাবে।