গলা ব্যথায় উপশম পেতে করণীয়

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:৩৭
ঋতু বদল হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেছে নানা ধরনের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ। এ সময় শিশুরা গলাব্যথা, জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গে আক্রান্ত হয়। বেশির ভাগ গলাব্যথাই শ্বাসযন্ত্রের উপরের অংশে প্রদাহজনিত কারণে হচ্ছে। এর সঙ্গে জ্বর, মাথা ও কানব্যথা হতে পারে, ঢোক গিলতে কষ্ট হয় বা খুক খুক কাশিও হতে পারে।
 
বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, বিশেষ করে রাইনো ভাইরাস এর জন্য দায়ী। কখনো স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করেও গলাব্যথা হয়। এ থেকে নিরাময় পেতে যা করণীয়-
 
১. গবেষণায় প্রমাণিত যে কুসুম গরম লবণ পানি কেবল জীবাণুকেই ধুয়ে মুছে দেয় না, প্রদাহ ও ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে। এক কাপ হালকা গরম পানিতে আধা চামচ লবণ মেশাতে হবে। বিস্বাদ লাগলে এতে কয়েক ফোঁটা মধুও মেশানো যেতে পারে। তারপর দিনে দুই বা তিনবার গার্গল করতে হবে।
 
২. হাঁচি, কাশি ও গলার ভেতর প্রচুর তরল পদার্থ নিঃসরণের জন্য শরীর খানিকটা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই প্রচুর পানি পান ও তরল খাদ্য খেতে হবে৷ ঠাণ্ডা পানি এড়িয়ে চলতে হবে। গলার প্রদাহে চমৎকার কাজ দেয় ধোঁয়া ওঠা গরম স্যুপ।
 
৩. মেনথল, ইউক্যালিপটাস বা ফেনলসমৃদ্ধ কিছু লজেন্স চুষে খেলে প্রদাহ ও ব্যথা অনেকটাই কমে। এগুলো মূলত ক্লোরোসেপটিক অর্থাৎ গলায় একটা আরামদায়ক অনুভূতি এনে দেয়ার পাশাপাশি জীবাণুনাশেও সাহায্য করে৷
 
৪. দিনে দুই বা তিনবার গরম চা পান ব্যথা থেকে অনেকটা উপশম দিতে পারে। গ্রিন-টি বা অন্য কোনো হারবাল চা আরো ভালো। চাইলে চায়ের মধ্যে লেবুর রস বা লবঙ্গজাতীয় জিনিস যোগ করা যেতে পারে। যা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে৷
 
৫. যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করবে। দরকার হলে কাজ থেকে ছুটি নিতে হবে। অবকাশ যাপন করলে ভালো। কণ্ঠস্বর পরিবর্তিত হলে কথার বিরতি নিতে হবে।
 
৬. বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল বা বেদনানাশক ওষুধই যথেষ্ট। তবে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে গলায় স্ট্রেপটোকক্কাস সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
 
গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ গলা ব্যথার উপসর্গ কোনো চিকিৎসা ছাড়াই তিনদিনের মধ্যে সেরে যায়। ৮৫ শতাংশ সেরে ওঠে সাত দিনের মাথায়।